Indo-US Trade Deal: ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে চাঙ্গা সেনসেক্স - শর্ত প্রকাশের দাবি বিরোধীদের

People's Reporter: প্রধানমন্ত্রী মোদী এই চুক্তির বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করলেও চুক্তিতে তেল এবং কৃষি আমদানি সংক্রান্ত কোনও তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি। চুক্তি নিয়ে প্রতিবাদ SP, কংগ্রেস ও CPIM-এর।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফাইল ছবি, দ্য মিন্ট থেকে সংগৃহীত
Published on

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবার খবরে শেয়ার বাজার এক ধাক্কায় বেড়েছে প্রায় ২৪০০ পয়েন্ট। নিফটি বেড়েছে ৭০০ পয়েন্টের বেশি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ক্ষতির মুখ দেখা ভারতীয় টাকার দরও ২০২১ সালের পর এই প্রথম এক ধাক্কায় বেড়েছে অনেকটাই। সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরেই এই চুক্তিতে সাড়া পড়েছে বাণিজ্য মহলে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তির বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করলেও চুক্তিতে তেল এবং কৃষি আমদানি সংক্রান্ত কোনও তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।

রাজনৈতিক মহলে এই চুক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জয় হিসেবেই বলা হচ্ছে। কারণ এই চুক্তির ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ওপর যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা তা কমে ১৮ শতাংশ হবে বলে জানা গেছে। যে হার ভিয়েতনাম, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের চেয়েও কম।

কী কী বিষয়ে ধোঁয়াশা?

যদিও চুক্তির বিষয় এখনও প্রকাশ্যে না আসায় তা নিয়ে বেশ কিছু দ্বন্দ্ব আছে। যেমন, এই চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পোষ্ট করেছেন তাতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবেন এবং পরিবর্তে আমেরিকা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে সম্মত হয়েছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় চুক্তির বিষয়ে যে পোষ্ট করেছেন তাতে রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে কিছুই জানাননি। ফলে বিষয়টা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।

কী জানাচ্ছে সমাজবাদী পার্টি?

নতুন এই চুক্তির বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস ও সিপিআইএম। এক বিবৃতিতে ভারত-মার্কিন চুক্তির কড়া সমালোচনা করে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব জানিয়েছেন, আমেরিকার জন্য ভারতের কৃষি বাজার উন্মুক্ত করে দিয়ে ভারত দেশের কৃষকদের সঙ্গে ‘বেইমানি’ করলো। কারণ ভারতের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

নিজের বিবৃতিতে অখিলেশ আরও দাবি করেন, বিজেপি এবং তার সহযোগীরা স্বাধীনতার আগে থেকেই ‘বিদেশী স্বার্থের দালাল’ এবং আজও তা বর্তমান। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সমঝোতা করে বিদেশ থেকে বিজেপি নেতারা কত কমিশন খেয়েছেন তা প্রকাশ্যে আনা দরকার।

অখিলেশ যাদবের মতে, এই নীতি শুধু যে দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে শেষ করে দেবে তাই নয়, এই চুক্তির ফলে দেশের মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণি ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ এই চুক্তির ফলে নতুন এক ফড়ে শ্রেণির উদ্ভব হবে এবং যারা দাম নিয়ন্ত্রণ করবে।

অখিলেশের অভিযোগ, বিজেপির একমাত্র উদ্দেশ্য তার সহযোগীদের জন্য জমি দখল করা। বিজেপি সরকারের এই চুক্তি থেকেই তাদের কৃষক বিরোধী মানসিকতা প্রকাশ পায়।

চুক্তি প্রসঙ্গে কংগ্রেসের বক্তব্য কী?

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভারত-মার্কিন চুক্তির কড়া সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এই চুক্তি ভারতকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ থেকে ‘সেল ইন্ডিয়া’তে রূপান্তরিত করবে। কারণ, এই চুক্তির ফলে ভারতের খুচরো বাজার বিদেশীদের হাতে চলে যাবে এবং যার ফলে স্থানীয় ছোট উৎপাদনকারী এবং ছোটো ব্যবসায়ীরা মার খাবে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ভারত এই চুক্তির ঘোষণা করেনি, ঘোষণা করেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মোদীর অনুরোধে তিনি এই চুক্তি করেছেন। এই চুক্তির ফলে ভারতের কৃষি ক্ষেত্র আমেরিকার জন্য খুলে দেওয়া হবে। যার ফলে কৃষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি ভারত আমেরিকা থেকেই সবকিছু কিনতে শুরু করে তাহলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র কী হবে?

ভারত মার্কিন চুক্তি প্রসঙ্গে কী জানালো সিপিআইএম পলিটব্যুরো?

সিপিআইএম পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির পুরো বয়ান প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে সিপিআইএম জানিয়েছে, বিশদে আলোচনা করতে সংসদে এই চুক্তির পুরো বয়ান পেশ করতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমদানি শুল্ক তুলে দিলে ভারতের বাজার আমেরিকার পণ্যে ছেয়ে যাবে। দেশের শিল্প এবং শ্রমজীবীদের ওপর তার বিপজ্জনক প্রভাব পড়বে। এই চুক্তির ফলে ভারতের সার্বভৌমত্ব খর্ব হবে বলেও দাবি করেছে সিপিআইএম পলিটব্যুরো।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
PM Modi: অনুপ্রবেশকারীদের কারণে দেশের নিরাপত্তা ও ঐক্য প্রশ্নের মুখে - প্রধানমন্ত্রী মোদি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
Donald Trump: 'ফোন করেছিলেন মোদী' - ভারত-পাক যুদ্ধবিরতি নিয়ে ফের নয়া দাবি ট্রাম্পের!

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in