

আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির পূর্ণ বয়ান সংসদে পেশ করার দাবি জানালো সিপিআইএম পলিটব্যুরো। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই চুক্তিকে ‘একটি ভারসাম্যহীন বাণিজ্য চুক্তি’ অভিহিত করে এই দাবি জানিয়েছে সিপিআইএম। বিবৃতিতে চুক্তির বিশদ বিবরণ পাওয়ার আগেই তা নিয়ে কর্পোরেট মিডিয়ার উচ্ছ্বাসে বিস্ময় প্রকাশ করেছে সিপিআইএম পলিটব্যুরো।
৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিবৃতিতে সিপিআইএম জানিয়েছে, একমাত্র চুক্তির সম্পূর্ণ বিষয় এবং বিশদ বিবরণ পাওয়া গেলে তবেই তার সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির বিশদ বিবরণ পাওয়ার আগেই তা নিয়ে কর্পোরেট মিডিয়া যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে তা ভুল।
বিবৃতিতে সিপিআইএম জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় এই সমঝোতা সম্পর্কে বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক কমিয়ে শূন্য করা হবে। পাশাপাশি ভারত আমেরিকার থেকে আমদানিতে শুল্ক শূন্য করে দেবে। শুল্কের বাইরে বাণিজ্যের অন্য বাধা পুরোপুরি দূর করে দেবে ভারত।
পলিটব্যুরোর আশঙ্কা, আমদানি শুল্ক তুলে দিলে আমেরিকার পণ্যে ভারতের বাজার ছেয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে দেশজ শিল্প এবং দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার ওপর বিপজ্জনক প্রভাব পড়বে। শুল্কের বাইরে অন্য বাধা দূর করার অর্থ কৃষকদের যে ভরতুকি দেওবা হয় তাও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
পলিটব্যুরো ট্রাম্পের দাবি উল্লেখ করে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে ভারত। আমেরিকার জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য আমদানি ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে রাজি হয়েছে ভারত। এক্ষেত্রে ট্রাম্পের দাবি যদি সত্যি হয়, তা’হলে এই সমঝোতা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক হিসেবে বিবেচিত হবে। ভারতকে অনুগত সহযোগীর জায়গায় রেখে এই সমঝোতা করা হচ্ছে যার ফলে ভারতের সার্বভৌমত্ব খর্ব হবে।
মঙ্গলবার রাজ্যসভায় ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন সিপিআইএম সাংসদ জন ব্রিটাস। এদিন তিনি বলেন, “সংসদে ঘোষণা না করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হল। তাহলে সংসদ কি এখন “এলন মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্মের চেয়েও নিকৃষ্ট” হয়ে গেছে। সংসদের উচ্চকক্ষে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের বিতর্কে অংশ নিয়ে ব্রিটাস ভারতের কৃষি ক্ষেত্রের ওপর এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
প্রসঙ্গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’জনেই এই চুক্তির বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রথম জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ২ ফেব্রুয়ারি রাত ১০.৪৬ মিনিটে এই চুক্তির বিষয়ে জানানো হয়। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১.০২ মিনিটে তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এই চুক্তির বিষয়ে জানান।