

মহারাষ্ট্র সরকারের লিখিত প্রতিশ্রুতির পর প্রত্যাহার করে নেওয়া হল নাসিক থেকে মুম্বাই লংমার্চ। রবিবার ২৫ জানুয়ারি নাসিক থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৪০ হাজার কৃষক বলে জানিয়েছিল সিপিআইএম ও এআইকেএস। ২৯ জানুয়ারি শুক্রবার সেই পদযাত্রা প্রত্যাহার করে নিয়েছে সিপিআইএম এবং বাম কৃষক সংগঠন এআইকেএস। ২৮ জানুয়ারি এই মিছিল ছিল থানে জেলার ভাতসা অঞ্চলে।
সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হাজার হাজার কৃষক নাসিক থেকে মুম্বাইয়ের দিকে যাত্রা শুরু করার পর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা এআইকেএস নেতাদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, বনভূমির মালিকরা তাদের জমির দাবির পুনঃপরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সরকার এই আবেদনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং জানায়, মহকুমা কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন কমিটি গ্রাম কমিটির প্রতিবেদন এবং বন অধিকার আইনে উল্লিখিত দুটি প্রমাণের ভিত্তিতে বন অধিকার প্রদানের জন্য পদক্ষেপ নেবে।”
গত ২৭ জানুয়ারি সিপিআইএম এবং সারা ভারত কৃষক সভার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মহারাষ্ট্রের পাঁচ মন্ত্রী এবং কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিক। রাজ্য সচিবালয়ে এই বৈঠকের পর ওইদিনই নিজের বাসভবন ‘বর্ষা’য় বাম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। দু’পক্ষের আলোচনার পর মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ পদযাত্রায় উল্লিখিত দাবিগুলির দ্রুত মীমাংসার বিষয়ে নিশ্চয়তা দেন।
আলোচনার শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এআইকেএস সভাপতি অশোক ধাওয়ালে জানান, “আলোচনা সফল হয়েছে। আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে সরকার বন অধিকার আইনের অধীনে সমস্ত জমির দাবিগুলো পর্যালোচনা করবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলাভিত্তিক এই দাবিগুলো পর্যালোচনা করা হবে। আদিবাসী কৃষকরা বনভূমিতে ফসল ফলানোর জন্য সরকারের সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সরকার মন্দিরের জমি ঐতিহ্যবাহী কৃষকদের কাছে হস্তান্তরের জন্য একটি আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। আমাদের আইনের একটি খসড়া দেওয়া হয়েছে। সরকার আরও বেশ কয়েকটি দাবি সম্পর্কেও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর বিক্ষোভ মিছিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
লংমার্চ প্রসঙ্গে সিপিআইএম এবং এআইকেএস নেতৃত্ব জানিয়েছিলেন, কৃষকদের এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “মিছিল থেকে বন অধিকার আইন (Forest Rights Act - FRA) এবং পেসা [The Provisions of the Panchayats (Extension to the Scheduled Areat) Act, 1996 – PESA] সম্পর্কিত অসংখ্য প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করা, সেচ প্রকল্প, জেলা পরিষদ স্কুলগুলিতে হাজার হাজার শূন্য পদ পূরণ ইত্যাদি বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে”।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্পোরেট-পন্থী নীতিগুলোকে কেন্দ্র করে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে আছে স্মার্ট মিটার প্রকল্প, এমএনআরইজিএ এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে দুর্বল করা, সরকার-কর্পোরেট আঁতাতের মাধ্যমে জমি দখল, চারটি শ্রম আইন চাপিয়ে দেওয়া ইত্যাদি।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন