

মহারাষ্ট্রের পালঘরে রাতভর জেলাশাসকের দপ্তর ঘিরে রেখে আংশিক দাবি আদায় করলো বাম কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভা। গত ১৯ জানুয়ারি চারোটি থেকে পালঘরের জেলাশাসক দপ্তর অভিমুখে মিছিল শুরু করেন প্রায় ৫০ হাজার কৃষক। পালঘর জেলার আটটি তহশিল থেকে কৃষকরা এই লংমার্চে অংশ নিয়েছিলেন। ৩ দিনে ৫৫ কিলোমিটার পথ লংমার্চ করে কৃষকরা পৌঁছান পালঘরে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও করে অবস্থান শুরু হয়। হাজার হাজার ক্ষুব্ধ আদিবাসী, কৃষক এবং কর্মী এই ভবন ঘেরাও করে। পালঘরের কালেক্টর ডঃ ইন্দুরানি জাখর সহ বহু সরকারি আধিকারিক কালেক্টরেট ভবনে আটকে পড়েন। অবশেষে বাধ্য হয়ে কৃষক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রশাসন।
মঙ্গলবারের ঘেরাও প্রসঙ্গে এআইকেএস সভাপতি অশোক ধাওয়ালে সংবাদমাধ্যমে জানান, আমরা বিশাল ভবন চত্বরের ভেতরে ধর্নার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে প্রশাসন। আমাদের আর কোনো উপায় না থাকায় পালঘর-বোইসার সংযোগকারী প্রধান সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হই, যার ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। আমরা এখন সব প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ বন্ধ করে দেবার পর জেলা আধিকারিকরা সন্ধ্যার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য রাস্তা বন্ধ থাকার কথা ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ সাত ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনার পর প্রশাসন লিখিতভাবে জানিয়েছে, আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বনাঞ্চল অধিকার আইনের অধীনে আটকে থাকা সব আবেদনের নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়াও পতিত ও বেনামি জমির নথিভুক্তি করে তা কৃষকদের মধ্যে বিলি করা হবে। আলোচনা থেকেই অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ত কালেক্টর এবং সিপিআইএম-এর পাঁচ প্রতিনিধিকে নিয়ে কমিটি তৈরি করা হয়।
কৃষকদের নাছোড় মনোভাবের সামনে প্রশাসন বাঁধের জলের উপর স্থানীয় জনগণের অধিকার সংক্রান্ত দাবি মেনে নেয়। এর মধ্যে আছে পানীয় জল ও সেচের জন্য অগ্রাধিকার, কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের বাস্তবায়ন, পেসা (PESA) আইন কার্যকর করা, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলিতে নিয়োগ, দরিদ্রদের জন্য আবাসন, জল জীবন মিশনের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা, রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি দমন এবং জেলা পরিষদ স্কুলগুলির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানের মতো বিষয়। এই দাবির প্রেক্ষিতে লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরেই কালেক্টরেট ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সিপিআই(এম)।
প্রকৃত কৃষককে জমির অধিকার, স্মার্ট মিটার বাতিল, বনাঞ্চলে জমির অধিকার আইন প্রয়োগ সহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে এই পদযাত্রার ডাক দেয় বাম কৃষক সংগঠন এআইকেএস। কৃষক সভা ছাড়াও এই পদযাত্রায় অংশ নেয় বাম শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ, সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি, এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, আদিবাসী অধিকার রাষ্ট্রীয় মঞ্চ।
দীর্ঘ এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন এআইকেএস সর্বভারতীয় সভাপতি অশোক ধাওয়ালে, দাহানুর সিপিআইএম বিধায়ক বিনোদ নিকোলে, এআইকেএস সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান, সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মারিওম ধাওয়ালে, এআইকেএস মহারাষ্ট্র রাজ্য সম্পাদক অজিত নাওলে প্রমুখ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন