
বুধবার একাধিক বিরোধী সংসদ সদস্য রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়ের কড়া সমালোচনা করলেন। এদিন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়ের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী ইন্ডিয়া মঞ্চের সাংসদরা তাঁর ‘একপেশে’ মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেন।
এদিন নয়াদিল্লীর কনস্টিটিউশন ক্লাবের ওই সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, ধনখড় একজন সরকারি মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মত আচরণ করছেন। তিনি অভিজ্ঞ বিরোধী সাংসদদের সংসদে বলতে বাধা দিচ্ছেন।
এদিন কংগ্রেস সভাপতি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, "গত তিন বছরে ধনখড়ের আচরণ তাঁর পদের মর্যাদার পরিপন্থী। কখনো কখনো তাঁরা সরকারের প্রশংসায় কথা বলতে থাকেন। মাঝে মাঝে নিজেকে আরএসএসের একলব্য বলা শুরু করেন। এই ধরনের বক্তব্য তাঁর অবস্থানের সাথে খাপ খায় না।"
তিনি আরও বলেন, সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের নেতাদের চেয়ারম্যান তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেন। সিনিয়র বা জুনিয়র যিনিই হন না কেন, তাঁরা আপত্তিকর মন্তব্য করে উভয় কক্ষের বিরোধী নেতাদের অপমান করেন।
খাড়গে বলেন, বিরোধীরা যখনই সরকারের কাছে কোনও প্রশ্ন করে, মন্ত্রীরা জবাব দেওয়ার আগেই, চেয়ারম্যান নিজেই সরকারের ঢাল হয়ে দাঁড়ান।
খাড়গে আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যসভায় যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী জগদীপ ধনখড়। তাঁর মতে, ধনখড় ওই পদের অসম্মান করছেন। তিনি বিরোধী দলের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করছেন এবং সরকারের প্রশংসা করছেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে আরও বলেন, ১৯৫২ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত সংবিধানের ধারা ৬৭-র অধীনে কোনও উপরাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনা হয়নি। এর আগে যারা এই পদে ছিলেন তাঁরা কেউ পদে থেকে রাজনীতি করেননি এবং পক্ষপাতহীন আচরণ করেছেন।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে খাড়গে জানিয়েছেন, রাজ্যসভা চেয়ারম্যানের অপসারণ কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে চাওয়া হয়নি অথবা এটা কোনও রাজনৈতিক লড়াই নয়। আমরা তাঁর আচরণ এবং একপেশে মনোভাবে হতাশ। সেই কারণেই তাঁর অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। বিরোধীরা কেউ ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু তিনি বিরোধীদের এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছেন।
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন