মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব (Impeachment Motion) আনবার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী ইন্ডিয়া মঞ্চ। ইন্ডিয়া মঞ্চের পক্ষ থেকে আগামী শুক্রবার এই প্রস্তাবের নোটিশ দেওয়া হতে পারে। সূত্র অনুসারে, ইতিমধ্যেই প্রস্তাবের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন-এর মাধ্যমে ‘নির্বাচনী জালিয়াতি’, ‘মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা’ এবং ‘অসদাচরণ’ করা হচ্ছে।
সূত্র অনুসারে, লোকসভায় এই প্রস্তাব জমা দেবার জন্য ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। রাজ্যসভায় প্রয়োজন ৫০ জন সাংসদের। আপাতত স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ চললেও সংসদের কোন কক্ষে এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ইন্ডিয়া মঞ্চের শরিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মুখ্য সচেতকদের এই বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যদি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হয় সেক্ষেত্রে তা হবে দেশের মধ্যে প্রথম। অতীতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এন শেষণ এবং নবীন চাওলার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনবার বিষয়ে আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রসঙ্গত ১৯৯০-এর দশকে এবং ২০০৬ সালে এই দুই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এই মুহূর্তে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। রাজ্যে বহু ভোটারের নাম বাতিল, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি প্রভৃতি নিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে চাপান উতোর চলছে। ইতিমধ্যেই সংসদের দুই কক্ষেই বিষয়টি উত্থাপিত হলেও তা নিয়ে কোনও মীমাংসা হয়নি এবং প্রবল বিতণ্ডার জেরে অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়।
সম্প্রতি রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন এসআইআর-এর বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, তারা নির্বাচনী সংস্কার চান। কিন্তু যে পদ্ধতিতে এসআইআর করা হচ্ছে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে এবং বিশদে আলোচনার প্রয়োজন। ডেরেক ও ব্রায়েনের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেস সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ইমপিচ করার পদ্ধতি কী?
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্তাবলী এবং পদের মেয়াদ) আইন, ২০২৩ অনুসারে, “সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মতো একই পদ্ধতি এবং একই কারণ ব্যতীত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা যাবে না।”
এক্ষেত্রে, ১৯৬৮ সালের বিচারক তদন্ত আইন (Judges Inquiry Act, 1968) অনুসারে, সংসদের যে কোনো কক্ষে ইমপিচমেন্ট নোটিশ দেওয়া হলে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারককে অপসারণ করা যেতে পারে। লোকসভায় নোটিশ দেওয়া হলে কমপক্ষে ১০০ জন সদস্যের স্বাক্ষর থাকতে হবে এবং রাজ্যসভার ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ জন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর থাকতে হবে। এরপর স্পিকার বা চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে নাকি গ্রহণ করতে অস্বীকার করা হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন