

“আমরা জানতে চেয়েছি কমিশন একটা ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে মানুষকে শত্রু বানাল কেন? মানুষের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ ঘোষণা করল? কেন নির্বাচন কমিশন হয়ে গেল নির্যাতন কমিশন?” নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এই প্রশ্ন তুললেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
সেলিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি, এসআইআর-এ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়া ৬০ লক্ষ ভোটারকে আগে ফিরিয়ে আনতে হবে, তারপর ভোট হবে।
পশ্চিমবঙ্গে এসে এখানকার স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির সাথে বৈঠক করছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সিপিআইএম, তৃণমূল, কংগ্রেস, বিজেপি-র মতো সিপিআইএম-এর প্রতিনিধিরাও বৈঠক করেছে। রাজারহাটের একটি হোটেলে বৈঠক হয়।
বৈঠকে সিপিআইএম-এর তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, শমিক লাহিড়ী এবং আরফিন বেগম। বৈঠকে এসআইআর নিয়ে সরব হয়েছে তারা এবং এক থেকে দু দফায় ভোট করার দাবি জানিয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে সেলিম বলেন, ”আমরা স্পষ্ট বলেছি এই ৬০ লক্ষ লোককে বাদ দিয়ে ভোটার লিস্ট হতে পারে না। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৪ সালে বলেছিল, নামের বানানে সামান্য ভুল থাকলে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দেওয়া যাবে না। এসআইআর যখন ঘোষণা হয়নি, আমরা তার আগে থেকেই এই বিষয়টা নিয়ে বলছিলাম। এটার তো কোনও প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে। কমিশন নিজেই আজ স্বীকার করেছে যে কিছু প্রশাসনিক আধিকারিকের (বিএলও, ইআরও) গাফিলতিতে এমনটা হয়েছে। আমরা কমিশনকে প্রশ্ন করেছি, এই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন আপনারা? কারণ ভোট তো আবার এঁদের দিয়েই করানো হবে। এঁদের দিয়ে নিরপেক্ষ ভোট করানো যাবে? তাহলে সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমে রাজনৈতিক দল গুলোর প্রতিনিধিদের রাখা হোক।”
নিজেদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, “আমাদের নির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি, ১) এক দফায় ভোট হওয়া উচিত, খুব বেশি হলে দু-দফা। তার বেশি নয়। ২) ৬০ লক্ষ লোককে ভোটার লিস্টে ফিরিয়ে এনে তারপর ভোট করতে হবে। ৩) যাদের নাম ডিলিট করা হয়েছে তাদেরও সুযোগ দিতে হবে। ৪) নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া যাবে না।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন