

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি এবং এসএফআই, আইসা সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের ডাকে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন রাজ্যে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর চাপের মুখে ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আজ শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকে বসার কথা সিজেপি প্রতিনিধিদের। তার আগেই এদিন সকালে সিজেপি প্রতিনিধিরা জানায়, কোনও অবস্থাতেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি থেকে সরা হবে না। এরপরেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে তাঁর ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) হিন্দিতে লেখা এক বিবৃতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, বিগত চার দশকের বেশি সময় ধরে আমি শিক্ষা সংস্কারের প্রতি নিবেদিত। আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তি।
তিনি আরও লিখেছেন, “তবে, ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত NEET-UG পরীক্ষায় অনিয়ম ধরা পড়ে। ভারত সরকার অবিলম্বে বিষয়টিতে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে, তদন্তের ভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয়, পরীক্ষা বাতিল করে এবং পুনরায় পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করে। আগামী বছর থেকে পরীক্ষাটি সিবিটি (কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।”
বিবৃতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন বিষণ্ণ হয়েছে। এটি আমার কাছে ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়। ভারতের যুবশক্তিই এই দেশের আসল শক্তি। দেশের যুবশক্তিকে বিভ্রান্তির কুচক্রে ফাঁসতে দেব না, এটাই আমার সংকল্প। যন্তর-মন্তরে এবং দেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেই পরিস্থিতির সুযোগ যেন কোনো রাষ্ট্রীয়বিরোধী শক্তি না নিতে পারে, দেশের ঐক্য বজায় থাকুক, ভারতের একটি ছাত্রেরও ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায়, আমাদের সন্তানরা যেন তাদের সময় পড়াশোনায় ব্যয় করে, ক্যারিয়ার গঠনে মনোনিবেশ করে—এই সবকিছু ভেবে আমি আমার পদত্যাগপত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রীজি-র কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।
গত ৬ জুন প্রথম সিজেপি-র ডাকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “দেশের যুবসমাজ আর ভয় পাবে না, তারা লড়াই করবে। এমনকি আরশোলাও ভয় পায় না, আবার তারা কখনও মরেও না”। ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেলে বলা হয়, “আমরাই শিক্ষামন্ত্রীকে নির্বাচিত করে সেখানে পাঠিয়েছি; আমাদের করের টাকা থেকেই তিনি বেতন পান! তাঁর কার্যকালে লক্ষ লক্ষ তরুণের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত। আরশোলা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান বিদায় নিচ্ছেন!”
এরপর গত ২০ জুন থেকে লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভে বসে সিজেপি, এসএফআই, আইসা সহ বিভিন্ন সংগঠন। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। ২৮ জুন এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক।
হাজারো চেষ্টা করেও ককরোচ জনতা পার্টির ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান আটকাতে ব্যর্থ হল প্রশাসন। ‘চলো সংসদ’ অভিযান আটকাতে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেও আটকানো যায়নি নাছোড় বিক্ষোভকারীদের। প্রশাসনের প্রচেষ্টা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ অগ্রাহ্য করেই সংসদ অভিযান চালায় ছাত্র যুবরা। নীট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত এক মাস ধরে চলছিল এই আন্দোলন।
সোমবার দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ছুড়েও তাদের আটকানো যায়নি। কিছু সময়ের জন্য কিছু এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। এদিনের সংসদ অভিযান আটকাতে নয়াদিল্লীর বিভিন্ন রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। নিয়ন্ত্রণ করা হয় মেট্রো স্টেশন থেকে ঢোকা বেরোনো। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় তাদের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন থেকে বেরোতে দেওয়া হয়নি। তবুও বিক্ষোভকারীদের এক অংশ পৌঁছে যায় সংসদ ভবনের সামনে। তাদের আটকাতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন।
সোমবারের ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির রাস্তায় বিক্ষোভে বসে আটক হন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, অখিলেশ যাদবরা। পরিস্থিতির চাপে দফায় দফায় সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার বিষয়ে তারা অনড় ছিল। এরপরেই শনিবার দুপুরে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন