সন্ধ্যে ৬টার সময়েও বিক্ষোভ থামেনি। দিল্লীর যন্তর মন্তরে এখনও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন ছাত্র যুবরা। যদিও বারবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকা খালি করে দেবার ঘোষণা করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেই এলাকা ফাঁকা করতে পুলিশ জমায়েতের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে বলে অভিযোগ। যদিও তাতেও বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তর থেকে সরানো যায়নি। এই মুহূর্তে বহু মানুষ দিল্লীর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এলাকায় বড়ো সংখ্যায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন আছে।
সম্ভবত প্রশাসনও আন্দাজ করতে পারেনি ছাত্র যুবদের বিক্ষোভ এই বিশাল আকার নেবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেভাবে দলে দলে মানুষ এদিনের চলো সংসদ অভিযানে অংশ নিয়েছেন তা আটকাতে হিমসিম খেতে হয়েছে প্রশাসনকে। সংসদ অভিযানের অনুমতি না দিয়ে, জমায়েত নিষিদ্ধ করে দফায় দফায় লাঠি চালিয়ে, কাঁদানে গ্যাস ছুড়েও ছত্রভঙ্গ করা যায়নি বিক্ষোভকারী ‘আরশোলা’দের। উল্টে পুলিশের ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাসের সেল পুলিশের দিকেই ছুঁড়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ সূত্র অনুসারে, বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে এদিন আটক করা হয়েছে।
হাজারো চেষ্টা করেও ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান আটকাতে ব্যর্থ হল প্রশাসন। ‘চলো সংসদ’ অভিযান আটকাতে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেও আটকানো গেল না নাছোড় বিক্ষোভকারীদের। গতকাল রাত থেকেই বিভিন্ন ভাবে সোমবারের সংসদ অভিযান আটকানোর চেষ্টা চালায় প্রশাসন। যদিও প্রশাসনের সেই প্রচেষ্টা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ অগ্রাহ্য করেই সংসদ অভিযান চালায় ছাত্র যুবরা। নীট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত এক মাস ধরে চলছিল এই আন্দোলন।
সোমবার দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ছুড়েও তাদের আটকানো যায়নি। কিছু সময়ের জন্য কিছু এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। এদিনের সংসদ অভিযান আটকাতে নয়াদিল্লীর বিভিন্ন রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। নিয়ন্ত্রণ করা হয় মেট্রো স্টেশন থেকে ঢোকা বেরোনো। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় তাদের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন থেকে বেরোতে দেওয়া হয়নি। তবুও বিক্ষোভকারীদের এক অংশ পৌঁছে যায় সংসদ ভবনের সামনে। তাদের আটকাতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন।
সোমবার সকাল থেকে সিজেপি-র অভিযান আটকাতে সবরকমের ব্যবস্থা নেয় দিল্লি পুলিশ ও প্রশাসন। ব্যারিকেড তৈরি থেকে রাস্তায় ভারী গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা, এলাকা কার্যত সিল করে দেওয়া – সবরকমের ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছিল। যদিও তাতেও আটকানো যায়নি ছাত্র যুবদের। যারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এদিনের সংসদ চলোতে সামিল হতে হাজির হয়েছিলেন যন্তর মন্তরে।
উল্লেখযোগ্যভাবে সিজেপি-র এই অভিযানে দলমত নির্বিশেষে সামিল হন বহু সাধারণ মানুষ। নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২০ জুন থেকে দিল্লীর যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছিল সিজেপি।
গতকাল রাত থেকেই দিল্লীর যন্তর মন্তর এলাকায় সোমবারের অভিযান আটকাতে একাধিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে প্রশাসন। পাল্টা হিসেবে যন্তর মন্তরেই রাতভোর অবস্থান করেন বহু ছাত্র যুব। তাদের বক্তব্য, এলাকা ফাঁকা হয়ে গেলে অবস্থান বিক্ষোভ ভেঙে দিতে পারতো পুলিশ। তাই তাঁরা আন্দোলনস্থল পাহারা দিয়েছেন। ওই অঞ্চলেই পাশাপাশি মঞ্চে অবস্থান করছিলেন, এসএফআই, আইসা, সিজেপি-র সদস্যরা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন