Sonam Wangchuk: 'সরকারি হাসপাতালে আস্থা নেই'; সোনম ওয়াংচুকের স্থানান্তর চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী

People's Reporter: শনিবার সকালে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। তিনি নীট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করে অনশন করছিলেন।
গীতাঞ্জলী অ্যাংমো এবং সোনম ওয়াংচুক
গীতাঞ্জলী অ্যাংমো এবং সোনম ওয়াংচুকফাইল ছবি - সংগৃহীত
Published on

অবিলম্বে হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির দাবি জানালেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি। তিনি দিল্লীর সফদরজং হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুককে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। শনিবার সকালে একটানা ২১ দিন অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। তিনি দিল্লীর যন্তর মন্তরে নীট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দাবি করে অনশন করছিলেন।

জানা যাচ্ছে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আস্থা হারিয়েছেন সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। তাঁর আবেদনে জানানো হয়েছে, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে ২১ দিন ধরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে চিকিৎসার অজুহাতে অবৈধ ও বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হোক অথবা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হোক। তিনি আজই এই মামলার জরুরি শুনানির আবেদন করেছেন। তাঁর স্ত্রীর আরও দাবি, কার্যত নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে সোনম ওয়াংচুককে। একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিচ্ছে না বা তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিচ্ছে না।

হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখনও পর্যন্ত অনশন ভাঙতে রাজী হননি সোনম ওয়াংচুক। বিভিন্ন মহল থেকে জানা গেছে, তিনি চিকিৎসাও নিতে চাইছেন না। সেই হিসেবে আজ রবিবার ১৯ জুলাই তাঁর অনশন ২২ দিনে পড়েছে। গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা অবস্থান মঞ্চে গত ২৮ জুন যোগ দেন সোনম ওয়াংচুক এবং সেদিন থেকেই তিনি অনশন শুরু করেন।

সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে গীতাঞ্জলী লেখেন, সফদরজং হাসপাতালের ওপর তাঁর আর কোনো আস্থা নেই। তাঁর অভিযোগ, ওয়াংচুকের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ে হাসপাতালের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাঁর পটাশিয়ামের মাত্রা ২.৯-এ নেমে এসেছে, যা জীবনসংকটের ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু হাসপাতালের প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে কেবল ‘পটাশিয়ামের মাত্রা কমছে’ বলা হলেও নির্দিষ্ট কোনও মাত্রার উল্লেখ করা হয়নি।

রবিবার সকালের এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, "১০ ঘণ্টা অপেক্ষা ও বারবার অনুরোধের পর রাত ১০:৩০-এ যখন তারা আমাদের তাঁর রক্তের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দিল, তখন একটি স্বতন্ত্র ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.৫ পাওয়া গেল—যা স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই ছিল।"

তাঁর আরও অভিযোগ, "আমাদের ফ্লোরে প্রায় ৩০ জন এবং পুরো হাসপাতাল জুড়ে ১০০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকায় আমাদের চলাফেরা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এটি কোনো চিকিৎসা সেবা নয়; এটি বেআইনি আটকাদেশ।সোনমের কোনো ক্ষতি হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে বহন করতে হবে।"

ওই বার্তাতেই তিনি জানিয়েছেন, "তাই আমি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি এবং আজই জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়েছি, যাতে সোনমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আগেই তাঁকে অন্য কোথাও স্থানান্তরের অনুমতি পাওয়া যায়। প্রিয়জনের চিকিৎসার স্থান বেছে নেওয়ার জন্য কোনো পরিবারকেই যেন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে না হয়।"

গীতাঞ্জলী অ্যাংমো এবং সোনম ওয়াংচুক
Sonam Wangchuk: সফদরজং হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুক; 'অনুমতি ছাড়া কিছু যেন দেওয়া না হয়', জানালেন স্ত্রী
গীতাঞ্জলী অ্যাংমো এবং সোনম ওয়াংচুক
Ken-Betwa Link Project: সাতসকালেই কেন-বেতোয়া লিঙ্ক প্রজেক্ট বিরোধী বিক্ষোভস্থল খালি করলো পুলিশ

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in