দিল্লীর যন্তর মন্তর থেকে শনিবার সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার মতই রবিবার সকালে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলায় কেন-বেতোয়া লিঙ্ক প্রোজেক্ট-এর প্রতিবাদে আন্দোলতরত বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এদিন সকালেই বিক্ষোভস্থল খালি করে দিয়েছে পুলিশ।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনশনরত অমিত ভাটনগরকে আটক করেছে পুলিশ। যদিও পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করেছে। এক্স হ্যান্ডেলে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও দেখা গেছে। যেখানে পুলিশ আন্দোলনকারীদের বাসে করে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি পিপলস রিপোর্টার।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দিব্যা আহিরওয়ার রবিবার সকালে সংবাদমাধ্যমে জানান, রবিবার ভোর ৫টার দিকে বিরাট পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অমিত ভাটনগর সহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের আটক করে। আটক করার সময় অমিত ভাটনগর এই প্রকল্পের বিরাট অঙ্কের কথিত দুর্নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গত ১৫ দিন ধরে একটানা চলা কেন বেতোয়া লিঙ্ক প্রজেক্ট বিরোধী বিক্ষোভ চলছিল কুপী গ্রামের বারনা নদীর তীরে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে ‘জল সত্যাগ্রহ’, ‘চিতা সত্যাগ্রহ’, ‘প্রতীকী ফাঁসি সত্যাগ্রহ’ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এখানেই অনশনে বসেছিলেন আন্দোলনের নেতা অমিত ভাটনগর। তিনি গত ১১ দিন ধরে অনশন করছিলেন।
ভারতের ন্যাশনাল পারস্পেক্টিভ প্ল্যান-এর অধীনে কেন-বেতোয়া লিঙ্ক প্রজেক্ট ভারতের প্রথম নদী সংযোগ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হিসেবে জানানো হয়েছিলো, কেন নদী থেকে উদ্বৃত্ত জল খালের মাধ্যমে বেতোয়া নদীতে স্থানান্তর করা। যাতে মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের খরা-প্রবণ বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে সেচ ও পানীয় জলের সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। যদিও এই প্রকল্প ঘোষণার পর থেকেই তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের বাস্তবতা, প্রকল্প বাস্তবায়নে কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশগত ও আইনি সুরক্ষাবিধি মেনে চলার কথা জানানো হয়েছিল। গত ৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের প্রথম থেকেই স্থানীয় মানুষ নদী সংযোগ প্রকল্পের বিরোধিতা করছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন নিয়ে।
আন্দোলনস্থল থেকে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দেবার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিত্য পাটলে জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের বাসে করে তাদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পান্না জেলার বাসিন্দাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে এবং ছতরপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্যদের নিজ নিজ গ্রামে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কোনও বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি। যদিও অসমর্থিত সূত্র অনুসারে, আন্দোলনের নেতা অমিত ভাটনগর সহ প্রায় ১৫০ জনকে এদিন সকালে আটক করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘কেন-বেতোয়া লিঙ্ক প্রকল্প’ একটি জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্প। যা বাস্তবায়িত হলে বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থা, ব্যবহারযোগ্য পানীয় জল এবং উন্নয়নের সম্ভাবনাকে আরও উন্নত করবে।
যদিও বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে সহমত নন। তাদের বক্তব্য, গত এপ্রিল মাসে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প নিয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষা করা হয়নি।
এই প্রসঙ্গে আন্দোলনের নেতা অমিত ভাটনগর অভিযোগ করেন, কেন-বেতোয়া লিঙ্ক প্রকল্প এবং মাঝগাঁও ও রুঞ্জ সেচ প্রকল্পের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো তাদের জমি, বনভূমি, জলাশয়, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি হারিয়েছে; পাশাপাশি অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ফৌজদারি মামলা, উচ্ছেদ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, স্কুল ভেঙে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন