

শনিবার সকালে দিল্লীর যন্তর মন্তর থেকে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আপাতত তিনি সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি আছেন। যদিও এই ঘটনার পরেই সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া যেন কোনও কিছু যেন সোনম ওয়াংচুককে দেওয়া না হয়। দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে।
ওই বিবৃতিতে গীতাঞ্জলি জানিয়েছেন, “আমি দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে আছি, যেখানে @Wangchuk66-কে ভর্তি করা হয়েছে। আমার, তাঁর পরিবারের এবং গত ২০ দিন ধরে তাঁর স্বাস্থ্যের দেখভাল করা চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া তাঁকে মুখে বা শিরার মাধ্যমে (intravenous) কোনো কিছুই দেওয়া না হয়।"
সফদরজং হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনশন এবং জলশূন্যতার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার আওতায় রাখা প্রয়োজন।”
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সোনম অয়াংচুকের স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতির কারণে তাঁকে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা দেবার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাননীয় হাইকোর্টের নির্দেশ পালনের সময় বিক্ষোভকারীরা বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সামান্য হট্টগোলের সৃষ্টি হয়; তবে পুলিশ অত্যন্ত সংযমের পরিচয় দেয় এবং নিরাপদে পুরো কার্যক্রমটি সম্পন্ন করে। আমরা যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ করছি যেন তারা অবিলম্বে শান্তিপূর্ণভাবে ওই স্থানটি খালি করে দেন।
শনিবার সকালে সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলেও এখনও সেখানে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন আইসা-র (AISA) সদস্যরা। তাদের অনশনও ২১ তম দিনে পড়েছে। সেখানে অনশন করছেন নেহা, আমীন এবং মণীশ।
শনিবার সকালের ঘটনা প্রসঙ্গে নেহা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সকাল ৭টার দিকে সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ অবস্থান স্থলে আসেন এবং এর ১০ মিনিটের মধ্যে বিরাট সংখ্যা পুলিশ বাহিনী মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসে। এরপরেই সোনম ওয়াংচুককে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে জোর করে থামিয়ে দেওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশের এই প্রচেষ্টা লজ্জাজনক।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন