

দিল্লীর যন্তর মন্তরে ২০ দিন ধরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে আমির খানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলো কংগ্রেস, আরজেডি এবং আম আদমি পার্টি। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে চলচ্চিত্রাভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক আমির খান দাবি করেছেন, থ্রি ইডিয়টস সিনেমার ফুংসুক ওয়াংডু-র চরিত্র আদৌ সোনম ওয়াংচুককে ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। এই চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় তাঁরা সোনম ওয়াংচুককে চিনতেনই না। আজ শনিবার সোনম ওয়াংচুকের অনশন ২১ দিনে পড়লো।
এই বিবৃতি নিয়েই কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন আমির খান। প্রশ্ন উঠেছে ২০০৯-এর ঘটনা নিয়ে এতদিন কিছু না জানালেও হঠাৎ করে কেন ২০২৬ সালে এসে এরকম দাবি করতে হল আমির খানকে? বিরোধী নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার পথে হাঁটতে ভয় পাচ্ছেন বলেই আমির খান এই সময়ে এরকম একটি মন্তব্য করেছেন।
আমির খানের বিবৃতির সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা সংবাদসংস্থায় জ্নায়েছেন, এই কথাটা মনে করিয়ে দেবার জন্য আমির খানের এত বছর সময় লাগলো কেন? এখনও পর্যন্ত সকলেই তো জানতো থ্রি ইডিয়টসের ওই চরিত্র সোনম ওয়াংচুককে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই তৈরি করা হয়েছিল। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের বিরুদ্ধে শিরদাঁড়া সোজা রাখা সহজ কাজ নয়।
এই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন আম আদমি পার্টির রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির খানের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আমির খান হোক অথবা যে কেউ, এই মোদী সরকার সকলের মুখোশ খুলে দিয়েছেন। সকলেই এদের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে। এদের কারোরই সত্যি বলার মত সৎ সাহস নেই।
একইভাবে আমির খানের কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা হুসেন দালভি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, কীভাবে ভয় মুক্ত হয়ে কথা বলতে হয় তা নাসিরুদ্দিন শাহকে দেখে শেখা উচিত আমির খানের। আমি আমির খানকে একজন অভিনেতা এবং প্রযোজক হিসেবে শ্রদ্ধা করি। এই সময়ে তাঁর সোনম ওয়াংচুকের জন্য কিছুটা সহানুভূতি দেখানোর প্রয়োজন ছিল।
সম্প্রতি লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালে এক প্রশ্নোত্তরে আমির খান থ্রি ইডিয়টস নিয়ে মুখ খোলেন। ২০০৯ সালের এই চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে তিনি জানান, সোনম ওয়াংচুকের আদলে থ্রি ইডিয়টস-এর ফুংসুক ওয়াংডু চরিত্রটি তৈরি করা হয়নি। এটা সকলের ভুল ধারণা। এই চলচ্চিত্র তৈরির সময় তিনি অথবা এই চলচ্চিত্রের পরিচালক রাজকুমার হিরানী অথবা লেখক অভিজাৎ জোশী সোনম ওয়াংচুকের সম্বন্ধে কিছুই জানতেন না।
আমির খান যদিও দাবি করেছেন যে তিনি সোনম ওয়াংচুকের সম্পর্কে থ্রি ইডিয়েটস তৈরির সময় কিছুই জানতেন না, কিন্তু এই একই বিষয়ে সোনম ওয়াংচুকের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ২০০৮ সালে মুম্বাইতে সিএনএন-আইবিএন-এর রিয়েল হিরো পুরষ্কার গ্রহণের সময় আমির খানের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি আরও জানান, এই চলচ্চিত্র তৈরির আগে চলচ্চিত্র নির্মাতা টিমের সদস্যরা তাঁর স্কুলে গেছিলেন এবং সেই সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছিলেন এবং শ্যুটিং করতে চেয়েছিলেন। যদিও তাদের সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই পাশের একটি স্কুলে এই শ্যুটিং হয়।
গত ১৪ জুলাই থ্রি ইডিয়টস চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র চতুর রামলিঙ্গম-এর অভিনেতা ওমি বৈদ্য এক ভিডিও বার্তায় অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন। ভিডিও বার্তায় থ্রি ইডিয়টসের চতুর বলেন, আমি চাইনা উনি মারা যান। হ্যালো ইডিয়টস চিনতে পেরেছো? আমি ওমি বৈদ্য, থ্রি ইডিয়টসের চতুর। তোমাদের জন্য আমার একটা জরুরি বার্তা আছে। আমি যদিও এই ধরণের কিছু করিনা, তাই দয়া করে মন দিয়ে শোনো। ভিডিও বার্তা শুরুর আগেই তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সোনম ওয়াংচুকের চরিত্রে অনুপ্রাণিত হয়েই ফুংসু ওয়াংডু চরিত্র তৈরি করা হয়েছিল এবং তাঁকে একজন ‘বিনয়ী’ এবং ‘প্রভাবশালী ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করেন।
প্রসঙ্গত, নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে নয়াদিল্লীর যন্তর মন্তরে গত ২৮ জুন থেকে লাগাতার অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু বিশিষ্ট জন সোনম ওয়াংচুকের কাছে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। আজ তাঁর অনশন ২১ দিনে পা দিয়েছে। এই দাবিতেই যন্তর মন্তরে গত ২০ জুন থেকে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন