স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে দিল্লীর যন্তর মন্তর থেকে জোর করে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে উঠিয়ে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবস্থান মঞ্চ থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিশ এই অভিযান সম্পর্কে জানিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে সোনম ওয়াংচুকের অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ ছিল সোনম ওয়াংচুকের অনশনের ২১ দিন।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সোনম অয়াংচুকের স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতির কারণে তাঁকে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা দেবার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাননীয় হাইকোর্টের নির্দেশ পালনের সময় বিক্ষোভকারীরা বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সামান্য হট্টগোলের সৃষ্টি হয়; তবে পুলিশ অত্যন্ত সংযমের পরিচয় দেয় এবং নিরাপদে পুরো কার্যক্রমটি সম্পন্ন করে। আমরা যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের অনুরোধ করছি যেন তারা অবিলম্বে শান্তিপূর্ণভাবে ওই স্থানটি খালি করে দেন।
যদিও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট অভিজিৎ দীপকে এক এক্স বার্তায় জানিয়েছেন, “দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা সাধারণ মানুষকে মারধর করেছে এবং সোনম স্যারকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে।”
সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, "দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দীপকেকে তাঁর থাকার জায়গায় আটকে রেখেছে। অনেকে আমাকে জানাচ্ছেন যে সোনম ওয়াংচুককে বিক্ষোভস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হচ্ছে!” যদিও দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগের উত্তরে এখনও কিছু জানায়নি।
শনিবার সকালের এই ঘটনার পরেই এক এক্স বার্তায় সিজেপি সভাপতি অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, "এই মুহূর্ত থেকে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করছেন।"
জানা গেছে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে দিল্লীর সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাফদারজং হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সোনম ওয়াংচুককে সফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনশন এবং জলশূন্যতার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার আওতায় রাখা প্রয়োজন।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন