নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লিতে বন্ধ রাখা হয়েছে একাধিক মেট্রো স্টেশন। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) বুধবার জানিয়েছে রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সহ একাধিক মেট্রো স্টেশন পরবর্তী ঘোষণার আগে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তার কারণে এই মেট্রো স্টেশনগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। দিল্লীর যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থানকে গত সোমবার থেকে উত্তাল পরিস্থিতি।
সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে ডিএমআরসি-র পক্ষ থেকে নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) জানানো হয়, “নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনপথ, রাজীব চক, প্যাটেল চক এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট মেট্রো স্টেশনগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজীব চক ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ বা লাইন পরিবর্তনের সুবিধা চালু রয়েছে।”
এর কিছুক্ষণ পরেই বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে পরবর্তী বিবৃতিতে ডিএমআরসি জানায়, “নিম্নলিখিত মেট্রো স্টেশনগুলি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে, রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু আছে।”
ডিএমআরসি-র বিবৃতি অনুসারে এখনও পর্যন্ত মোট ১৬টি স্টেশনে মেট্রো চলাচল বন্ধ রয়েছে। যার মধ্যে আছে, লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বড়খাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, ITO, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম।
গত সোমবার দিল্লীর যন্তর মন্তর থেকে নীট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। এই অভিযান আটকাতে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও সেই অভিযান আটকাতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি চার্জ, কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয় সব রাজনৈতিক দল।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লীর আবহাওয়া। সংসদের বাদল অধিবেশন দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায়। এরপরেই রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ কংগ্রেস সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির দিকে মিছিল করে যান এবং সেখানেই অবস্থান শুরু করেন। এই অবস্থানে যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও। সন্ধ্যের দিকে ওই অঞ্চল থেকে আটক করা হয় বিক্ষোভকারীদের।
ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তাদের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ছাত্র যুবদের এই বিক্ষোভ স্বাধীনতা উত্তর ভারতের সবথেকে বড়ো বিক্ষোভ হতে চলেছে। সিজেপি গত ৩১ দিন ধরে যন্তর মন্তরে মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর আম্বেদকরের নীতি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়েছে। কিন্তু ২০ জুলাই সিজেপির শান্তিপূর্ণ অভিযানের ওপর পুলিশ বিনা প্ররোচনায় লাঠি চালিয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের যুব সমাজ আর চুপ থাকবে না। আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক কথা বলে এই আন্দোলনকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমাদের লড়াই মূল ইস্যুর জন্য এবং আমরা কোনোভাবেই পিছু হটবো না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন