

বৃহণমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC) নির্বাচনে মহাযুতি শরিক বিজেপি ও শিবসেনা একনাথ শিন্ধে গোষ্ঠীর আসন সমঝোতায় ফের জট দেখা দিল। প্রাথমিকভাবে শোনা গেছিল দুই দলের আসনরফা প্রায় চূড়ান্ত। যদিও জানা গেছে শিবসেনা সিন্ধে গোষ্ঠীকে তাদের চাহিদামত আসন দিতে রাজী নয় বিজেপি। এর আগেই বিজেপি-শিবসেনার আসন বন্টনের আলোচনা থেকে বাদ রাখা হয়েছে অপর মহাযুতি শরিক অজিত পাওয়ারের এনসিপিকে।
আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে বিএমসি এবং অন্যান্য ২৮ পুরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল প্রকাশিত হবে ১৬ জানুয়ারি। যদিও এখনও পর্যন্ত শাসক অথবা বিরোধী কোনও পক্ষই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে পারেনি। বিরোধী মহা বিকাশ আঘাদি শিবিরেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে দর কষাকষি চলছে।
সূত্র অনুসারে বিএমসি-র ২২৭ আসনের মধ্যে শিবসেনা শিন্ধে গোষ্ঠী কমপক্ষে ১০০ আসন দাবি করেছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্টই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কোনোভাবেই ৫২-র বেশি আসন তাদের দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে জানা গেছিল ৯৬ আসনে সম্মত হয়েছে শিবসেনা। যদিও গতকাল ঠাকরে ভাইদের মিলনের পরে বিজেপি কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে। সেক্ষেত্রে শিবসেনার জন্য অতিরিক্ত কিছু আসন ছাড়তে পারে বিজেপি।
শিবসেনা জানিয়েছে, ২২৭ আসনেই তারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। অর্থাৎ বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হলে তারা একক শক্তিতেই ২২৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিজেপি শিবসেনা শিন্ধে গোষ্ঠীকে ৭০ আসন ছাড়তে সম্মত হয়েছে। যদিও তাতে সম্মতি নেই শিবসেনার। তাঁরা কমপক্ষে ১০০ আসনের দাবিতে এখনও অনড়।
অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরে এবং রাজ ঠাকরে জোট বাঁধার পর শারদ পাওয়ারের এনসিপি এবং অজিত পাওয়ারের এনসিপি-রও জোট বাঁধার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গতকাল এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে বলেই খবর। আগে ঠিক ছিল উদ্ধবের সঙ্গেই জোট বেঁধে লড়াই করবে এনসিপি শারদ পাওয়ার গোষ্ঠী। যদিও উদ্ধব ঠাকরে এনসিপি (এসপি)-কে মাত্র ১০ থেকে ১২ আসন ছাড়তে চাওয়ায় জোটের সম্ভাবনা কার্যত নেই।
মহারাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক ডামাডোলে শারদ পাওয়ারের এনসিপি-র সঙ্গে কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে, দুই পাওয়ারের এনসিপির জোট হলে কংগ্রেস এককভাবে লড়াই করবে।
উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা এবং রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার মিলন হলেও আসন নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সমঝোতা হয়নি। বরং রাজনৈতিক মহলের সূত্র অনুসারে, বেশ কিছু আসন নিয়ে দুই পক্ষের টানাটানি চলছে। যা নিয়ে কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি কোনও পক্ষই।
শেষবার বিএমসি নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। ২০২২ সালে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও আইনি জটিলতায় সেই নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। শেষ নির্বাচনে শিবসেনা পেয়েছিল ৮৪ আসন, বিজেপি ৮২ আসন, কংগ্রেস ৩১ আসন, এনসিপি ১৩ আসন, এমএনএস ৭ আসন, সমাজবাদী পার্টি ৬ আসব এবং মিম ২ আসন। যদিও এরপর শিবসেনা এবং এনসিপি দুই দলই দু’টুকরো হয়েছে। ফলে বিএমসি নির্বাচনে ফলাফল কী হতে পারে তা এখনই স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন