

নিজের টিম নতুন করে সাজিয়ে নিলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। বিজেপির এই সাংগঠনিক রদবদলে বেশ কিছু পরিচিত মুখ যেমন বাদ পড়েছেন তেমনই ফিরে বেশ কিছু প্রায় হারিয়ে যাওয়া মুখ। যার মধ্যে অবশ্যই প্রধান রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানী, প্রাক্তন বিজেপি নেতা রাম মাধব। নতুন এই টিম থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে বিজেপি আইটিসেল-এর প্রধান হিসেবে পরিচিত মুখ অমিত মালব্যকে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন থাকলেও এই টিমে জায়গা হয়নি সদ্য পদত্যাগী প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের।
সোমবারই ঘোষিত হয়েছে বিজেপির নতুন টিম। নীতিন নবীনের নতুন এই টিমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানীকে। যিনি গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী কাছে আমেঠি কেন্দ্রে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক জগত থেকে কার্যত সরে গেছিলেন। ফিরেছিলেন অভিনয়ের জগতে। তাঁকে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন তালিকায় উল্লেখযোগ্য ফিরে আসা রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার। রাজস্থানের গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্যের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। এরপর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পরে ভজনলাল শর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী করার পর তাঁর সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব আরও বাড়ে। ফিরিয়ে আনা হল তাঁকেও।
সাম্প্রতিক সময়ে রাম মাধবের সঙ্গে অনেকটাই দূরত্ব বেড়েছিল একসময় বিজেপির শীর্ষস্তরে থাকা রাম মাধবের। সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরত্ব বাড়িয়েছিলেন দীর্ঘসময় বিজেপি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা রাম মাধব। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি থেকে কিছুটা সরেও গেছিলেন। তাঁকেও এবার ফিরিয়ে আনা হল।
উল্লেখযোগ্যভাবে নীতিন নবীনের টিম থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে আইটিসেলের প্রধান অমিত মালব্যকে। যিনি দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর এই দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর জায়গায় এসেছেন ছত্তিশগড়ের দীপক মাস্কে। বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ করা হয়েছে অনিল বালুনিকে।
নতুন এই সাংগঠনিক টিমে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পীযূষ গোয়েলকে। সম্ভবত নতুন এই পদের পর ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনে মন্ত্রীত্ব হারাতে হবে পীযূষ গোয়েলকে।
এছাড়াও বিজেপির নতুন টিমে আছেন, তীর্থ সিং রাওয়াত, বৈজইয়ন্ত জয় পান্ডা, ডি পুরন্দেশ্বরী, রেখা ভারমা, বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই দোশী, ডঃ ভারতী প্রবীণ পাওয়ার, মনপ্রীত সিং বাদল, লাল সিং আর্য, এম নাগরাজা, তারিক মনসুর, ডাঃ মধুছন্দা কর। জাতীয় সাধারণ সচিব হয়েছেন বি এল সন্তোষ এবং জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শিবপ্রকাশ ও সৌদান সিং। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনসল, বিপ্লব কুমার দেব, ডাঃ সতীশ পুনিয়া, স্মৃতি ইরানী, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী, সঞ্জয় ভাটিয়াকে। জাতীয় সচিব হয়েছেন কবিতা পাতিদার, কে সুরেন্দ্রন, ভোলা সিং, ডঃ প্রদীপ বর্মা, জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেল, সন্দীপ পাঠক, ফাংনন কোডিয়াক, সঙ্গীতা যাদব, মনোজ টিগগা প্রমুখ।
মিডিয়া আহ্বায়ক হয়েছেন অনিল বালুনি (উত্তরাখণ্ড)। সহ-আহ্বায়ক আশীষ উষা অগ্রবাল (মধ্যপ্রদেশ), প্রদীপ ভান্ডারি (দিল্লি), এবং শ্রী সিদ্ধার্থ যাদব (দিল্লি)। সোশ্যাল মিডিয়া আহ্বায়ক দীপক মাস্কে (ছত্তিশগড়)। সোশ্যাল মিডিয়ার সহ-আহ্বায়ক: প্রীতি গান্ধী (মহারাষ্ট্র), শিবানন্দ দ্বিবেদী (দিল্লি), অলোক ভাট (উত্তরাখণ্ড), এবং অরুণ যাদব (হরিয়ানা)
বিজেপির নতুন সাংগঠনিক টিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) তিনি জানান, “এই নবনিযুক্ত দলটি সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, কর্মশক্তি এবং তৃণমূলের সাথে সংযোগের এক অনন্য সমন্বয়। আমি নিশ্চিত যে, তারা আমাদের দলকে শক্তিশালী করতে এবং জনসেবার ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করতে নিজেদের সেরাটা দেবে। তাদের প্রতি আমার শুভকামনা রইল।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন