

জল্পনা সত্যি করে রাজ্যসভা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ। এবার বিহারের মসনদে বসতে চলেছে বিজেপির নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর রাজ্যসভায় চলে যাবার সাথে সাথেই বিহারে কার্যত শেষ হয়ে গেল নীতিশ যুগ। নীতিশ বিদায়ের সাথে সাথেই প্রশ্ন উঠে গেল তবে কি নীতিশকে ব্যবহার করে নির্বাচনে তাদের কার্যসিদ্ধি করে নিল বিজেপি?
একটানা দশম বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের রেকর্ড করার মাত্র চার মাসের মধ্যেই তাঁকে কিছুটা বাধ্য হয়েই পদ ছাড়তে হল বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের। যার ইঙ্গিত পাওয়া গেছিল শপথগ্রহণের সময়েই। যখন মন্ত্রীসভার ভাগ বাঁটোয়ারায় তাঁর হাত থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কেড়ে নেওয়া হয়। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ৮৫ আসন পেলেও আগামী দিনে জেডি(ইউ)-এর ভবিষ্যৎ কী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল এদিনই।
বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নিজের এক্স হ্যান্ডেল (পূর্বতন ট্যুইটার) থেকে এক পোষ্টে তিনি বলেন, “আমার সংসদীয় যাত্রার শুরু থেকেই, বিহার আইনসভার উভয় কক্ষ এবং সংসদের উভয় কক্ষের সদস্য হওয়ার ইচ্ছা আমার ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষার সাথে সঙ্গতি রেখেই আমি এবারের নির্বাচনে রাজ্যসভার সদস্য হতে চাই।”
শেষ বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে নীতিশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চায়নি বিজেপি। যা নিয়ে বেশ কিছুটা টানাপোড়েনের পর তা মেনে নেওয়া হয়। কারণ জেডিইউ-র এই দাবি মানা না হলে তাদের শিবির বদলানোর সম্ভাবনা ছিল। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ায় তাদের বড়ো অংশই নীতিশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর বিরোধিতা করেছিল। যদিও সেবারও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সামাল দেওয়া হয় এবং নীতিশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদ পান। কিন্তু তা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা করা গেল না।
বিহারের রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন বিজেপি বিধায়ক এবং রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। যদিও এই বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এদিন নীতিশ কুমারের মনোনয়ন জমার সময় বিজেপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী সহ এনডিএ শিবিরের বেশ কিছু নেতা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন