

জল্পনা আগেই ছিলো। সম্ভবত এবার সেই জল্পনাই সত্যি হতে চলেছে। সূত্র অনুসারে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের বিদায় আসন্ন। তাঁর জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বিজেপি বিধায়ক এবং রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। পরিবর্তে নীতিশ কুমার যাবেন রাজ্যসভায় এবং বিহারে বিজেপি তার নিজ দলের মুখ্যমন্ত্রী পাবে।
এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও ঘোষণা না হলেও, বিহারের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা যে আগামীকাল ৫ মার্চ নীতিশ কুমার রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর মনোনয়ন জমা দেবেন। নীতিশ কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পাশাপাশি তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমারকে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী করা হবে। যদিও এখনও পর্যন্ত নিশান্ত কুমার রাজনীতি থেকে বেশ কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই চলেন।
শেষ বিহার নির্বাচনের পর থেকেই নীতিশ কুমার আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। তাঁকে আদৌ আর মুখ্যমন্ত্রী করা হবে কিনা তা নিয়েও জোর চর্চা ছিল। যদিও নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও জেডিইউ-কেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়েছিল বিজেপি। যদিও তখনই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল যে তাঁকে সাময়িকভাবে মুখ্যমন্ত্রী করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে বিজেপি ওই পদের দখল নেবে। এবার হয়তো সেই জল্পনাই বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে।
দীর্ঘদিন থেকে বিহারে এনডিএ-র সমর্থনে সরকার চললেও এখনও পর্যন্ত কোনোদিনই বিহারে বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হননি। নীতিশ কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠানো হলে সেক্ষেত্রে বিজেপির পক্ষ থেকেই কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। যে দৌড়ে সম্রাট চৌধুরী এগিয়ে আছেন বলেই খবর। এনডিএ-র ক্ষমতা ভাগাভাগির রফাসূত্র মেনেই এই বদল হবে। কারণ এবারের নির্বাচনের পরেই নীতিশকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে রাজী ছিলেন না বিজেপি নেতৃত্বের বড়ো অংশ। সেবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সামাল দেওয়া হয়।
গত বছরের নভেম্বর মাসে নীতিশ কুমার এনডিএ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও প্রথমেই তাঁর হাতছাড়া হয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর। তা যায় বিজেপির সম্রাট চৌধুরীর হাতে। বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছিল, চাপ দিয়েই নীতিশ কুমারকে স্বরাষ্ট্রদপ্তর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যসভা নির্বাচনে বিহারের ৫ আসনে নির্বাচন হবে। যার মধ্যে সংখ্যার বিচারে এনডিএ শিবিরের ৪ আসনে জয় নিশ্চিত। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে বিহারের ২৪৩ আসনের মধ্যে এনডিএ শিবির ২০২ আসনে জয়লাভ করে। যার মধ্যে বিজেপির ঝুলিতে যায় ৮৯ আসন এবং ৮৫ আসন পায় জেডিইউ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন