বিহারে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশি আক্রমণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানালো কংগ্রেস। কংগ্রেসের অভিযোগ, সোমবার বিহারের রাজধানী পাটনায় চৌকিদার এবং কনস্টেবলদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। গতকালের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। সোমবারের লাঠিচার্জের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিহার বিধানসভায় বিরোধীরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালে তুমুল শোরগোল শুরু হয়।
নিজেদের বিভিন্ন দাবিতে সোমবার পাটনার ডাক বাংলো স্কোয়ারে দফাদার এবং চৌকিদাররা বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। জে পি গোলাম্বার অতিক্রম করে ডাক বাংলো স্কোয়ারে মিছিল ব্যারিকেডের সামনে আটকে যায়। ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে শুরু করে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিহার কংগ্রেস নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে পুলিশি লাঠিচার্জের ভিডিও পোষ্ট করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বিহারে বিজেপি-জেডিইউ সরকারের একনায়কতন্ত্র দেখুন। চৌকিদাররা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিল, নিজেদের দাবির কথা জানাচ্ছিল। সরকার পুলিশ পাঠিয়ে তাদের উপর লাঠিচার্জ করে। অনেক চৌকিদার গুরুতর আহত হয়। নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সরকার ভিন্নমতের কণ্ঠস্বর সহ্য করতে পারে না। এরা সংবিধানের দেওয়া অধিকারকে চূর্ণ করতে শুরু করেছে।”
পোষ্টে আরও বলা হয়েছে, “বিহারে, অবসরপ্রাপ্ত চৌকিদারদের রাস্তায় ধাওয়া করে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। এরা সেইসব মানুষ যারা বছরের পর বছর ধরে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রেখেছিলেন এবং আজ তারা তাদের দাবি জানাতে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমেছিলেন।”
লাঠিচার্জের ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিটি এসপি (সেন্ট্রাল) মমতা কল্যাণী বলেন, “বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করছিল বলে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, লাঠিচার্জের সময় বেশ কয়েকজন চৌকিদার আহত হয়েছেন, তবে কারও আঘাতই গুরুতর নয়।
মূলত বেতন বৃদ্ধি, চাকরি ক্ষেত্রে পরিষেবার উন্নতি, পরিবারের সদস্যদের চাকরির দাবিতে গতকাল বিহারে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত চৌকিদাররা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত দফাদার, চৌকিদাররা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সন্তানদের চাকরির দাবি জানিয়ে আসছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন