জনগণনার দায়িত্ব, বিএলও-র দায়িত্ব, জাতিগত জনগণনার দায়িত্ব, নির্বাচনের দায়িত্ব, ছাত্র পড়ানোর দায়িত্বের পর স্কুল শিক্ষকদের এবার গুণতি করতে হবে পথ কুকুরদের। চাঞ্চল্যকর এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিহারে। জেলার রোহতাস জেলার সাসারামে দেওয়া এই নির্দেশিকা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই নির্দেশিকা জারি করেছে সাসারাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। অর্থাৎ স্কুল শিক্ষকদের একাধিক সরকারি দায়িত্ব, শিক্ষাদান, পরীক্ষা সামলানোর পর কুকুর গোণার কাজ করতে হবে।
সাসারাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জারি করা ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে পুরসভা অঞ্চলে যত স্কুল আছে সেই স্কুলের শিক্ষকদের পথ কুকুর গোণার কাজ করতে হবে। এই কাজে শিক্ষকদের মধ্যে থেকেই একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে। শিক্ষকদের তিন দফায় এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। প্রথমত স্কুল চত্বরের মধ্যে এবং আশেপাশে কতগুলি পথ কুকুর থাকে। দ্বিতীয়ত, সেই পথ কুকুরদের বর্তমানে কী অবস্থা এবং তৃতীয়ত, এই পথ কুকুরদের নিয়ন্ত্রণ করতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সাসারাম পুরসভার এই নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই নির্দেশিকা প্রসঙ্গে এক শিক্ষক নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, আমরা ইতিমধ্যেই অ-শিক্ষাগত বিভিন্ন দায়িত্বে জর্জরিত। যদি আমাদের শিক্ষক হিসেবেই নিয়োগ করা হয়ে থাকে তাহলে প্রথমে শিক্ষকতার অনুমতি দেওয়া উচিত। যদিও পুরসভার কমিশনার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন সরকারি গাইডলাইন মেনেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সাসারাম পুরসভার এই নির্দেশিকা প্রসঙ্গে সমালোচকরা জানিয়েছেন, পথ কুকুর গোনা এবং এই বিষয়ে খোঁজ খবর নেবার কাজ পুরসভার অথবা প্রাণী উন্নয়ন দপ্তরের। এই কাজ স্কুল শিক্ষকদের নয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন