

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে (United Nations General Assembly) ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানইয়াহুর ভাষণের সময় সম্মেলন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন একাধিক দেশের প্রতিনিধি। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানইয়াহু ভাষণ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই অধিকাংশ সদস্য হল ছাড়েন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, নেতানইয়াহুর বক্তব্যের সময় সম্মেলন কক্ষের অধিকাংশ আসনই ফাঁকা পড়ে ছিল।
রাষ্ট্রসংঘের ৮১ তম সাধারণ অধিবেশনে গতকাল তাঁর ভাষণের সময় হল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া সদস্যদের ‘মরাল কাওয়ার্ডস’ (Moral Cowards) বলে সম্বোধিত করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ফাঁকা হলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানকে আক্রমণ করা তাঁর নেওয়া সব সিদ্ধান্তের মধ্যে সবথেকে সহজ সিদ্ধান্ত।
নিজের বক্তব্যে গাজা গণহত্যা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নেতানইয়াহু বলেন, গাজায় গণহত্যার কথা বলে যে প্রচার করা হচ্ছে তা এই শতাব্দীর সবথেকে বড়ো মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, ইজরায়েল গাজায় কোনও গণহত্যা করেনি। বরং গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে। নিজের বক্তব্যে গাজা ও ইরানের ওপর ইজরায়েলের আক্রমণের পক্ষে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, গতকাল বেঞ্জামিন নেতানইয়াহু মঞ্চে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধিক্কার জানাতে শুরু করেন বেশ কিছু সদস্য। যদিও কিছু সদস্যকে তাঁর সমর্থনে শ্লোগান দিতেও দেখা যায়। একসময় বেঞ্জামিন নেতানইয়াহু সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখনও পর্যন্ত এই হলে যদি কোনও নৈতিক কাপুরুষ থেকে থাকেন তাহলে তারাও নির্দ্বিধায় হল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন।
নেতানইয়াহুর ভাষণের আগেই একাধিক দেশের প্রতিনিধি ইরান এবং গাজার ওপর ইজরায়েলের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করে বেঞ্জামিন নেতানইয়াহু বলেন, “বর্বরদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বড় অংশীদার আমরা আর পাইনি। তার সাহসী নেতৃত্বের জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।” তিনি আরও বলেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র “শুধু নিজেদের রক্ষা করার জন্যই নয়, বরং সভ্যতাকে বাঁচানোর জন্য” একসঙ্গে কাজ করেছে।
তবে এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরেও রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে একইরকম বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। সেবারেও তাঁর ভাষণের সময় বহু সদস্য অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। সেবারেও প্রায় ফাঁকা হলেই ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন