

১-এ ১-এ এগারো। ঠিক কীভাবে যে পিপলস রিপোর্টার দশ বছর পার করে এগারোতে পা দিয়ে ফেললো সেটাই বোধহয় চরম এবং পরম আশ্চর্যের। বিস্ময়ের তো বটেই। এই কঠিন সময়ে এক পা এক পা করে এগারোতে পৌঁছে যাওয়ার লড়াই কোনও ব্যক্তির নয়। বরং এক সমষ্টির। টিম পিপলস রিপোর্টারের। হাজারো ঝড় ঝাপ্টা উপেক্ষা করেই। সঙ্গে অবশ্যই ছিল লাখো পাঠক, দর্শক, শুভানুধ্যায়ীদের বাড়িয়ে দেওয়া হাত।
দীর্ঘ চলার পথে হাজারো সমস্যা ছিল, আজও আছে। বিষয়টা এরকম নয় মোটেই যে সবকিছুই গত বছরে মসৃণ ভাবে চলেছে, চলছে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সেটা বোধহয় সম্ভব নয়। কারণ মসৃণ গতিতে নীতি, আদর্শকে বাঁচিয়ে রেখে কোনও প্রতিষ্ঠানকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে যা যা দরকার তার কিছুই আমাদের কাছে অবশিষ্ট নেই। সামান্য জেদটুকু ছাড়া। লড়াই সেই জেদে ভর করেই। এক অসম এবং বিষম যুদ্ধ।
প্রচার সর্বস্ব এই সময়ে দাঁড়িয়েও নিজেদের প্রচার আমরা কোনোদিনই করিনি। এসবের থেকে নিজেদের অনেকটাই দূরে নিজেদের সরিয়ে রেখে শুধু কাজটুকু করার চেষ্টা করি। কারণ নিজেদের প্রচার করতেও যে পরিমাণ অর্থের দরকার হয় সেটুকুর সংস্থানও আমাদের নেই। বাণিজ্যিক সাফল্যের নিরিখে পিপলস রিপোর্টারের মূল্যায়ন করতে গেলে বলতে হবে, আমরা ডাহা ফেল।
যদিও তার মানে এই নয় যে পিপলস রিপোর্টার সমঝোতার রাস্তায় হাটে। ২০১৬ থেকে এখনও পর্যন্ত সে পথ ধরেনি পিপলস রিপোর্টার। তাতে হয়তো আমাদের ভিউ কিছুটা কম হয়েছে। সেই অর্থে আমাদের খবর হয়তো ততটা ভাইরাল হয়নি, বা ভিডিও ভাইরাল হয়নি। কিন্তু যারা খবরের মধ্যে থেকে শুধু খবরটুকুই খুঁজে নিতে চান, সেইসব সিরিয়াস পাঠকরা বিশেষ কোনও খবরের ক্ষেত্রে একবার হলেও পিপলস রিপোর্টার খুঁজে দেখেন। আমাদের প্রাপ্তি এটুকুই।
আমরা খবর বলতে গল্প বুঝিনা, খবরকেই বুঝি। তাই খুবই বাছাই করে প্রয়োজনীয়, গুরুত্বপূর্ণ খবরটুকুই আমাদের ওয়েবসাইটে, ফেসবুক পেজে, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউবে রেখে দেবার চেষ্টা করি। আমাদের নিতান্তই সাদামাটা পরিবেশন থেকে তাই নির্মমভাবে ছেঁটে ফেলি অপ্রয়োজনীয় ঘটনাকে। গত দশ বছর ধরে সেই কাজই আমরা করেছি। দেশের, রাজ্যের, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের পট বদলের ছবি ধরা আছে আমাদের বিভিন্ন খবরে। যা অবশ্যই আগামীর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে থেকে যাচ্ছে।
আমাদের লড়াই চলছে। হয়তো চলবেও। কিন্তু কতদিন? সময় যত এগোচ্ছে সেই প্রশ্ন তত ঘিরে ধরছে আমাদের। বেশ বুঝতে পারছি যে সময়ের দাবি মেনে যতটা সক্রিয় হওয়া দরকার তা সবসময় হয়ে উঠছে না। বেশ কিছু ক্ষেত্রে খামতি থেকে যাচ্ছে। হয়তো বা কয়েকজন মানুষের কিছুটা জেদের কারণেই এখনও পিপলস রিপোর্টারের লড়াই থেমে যায়নি। আমরা আশা করবো, আমাদের এই কঠিন পথ চলায় আপনারাও আমাদের পাশে থাকবেন, সঙ্গে থাকবেন। আপনাদের গুজবে নয়, প্রকৃত খবরের মধ্যে রাখতে পিপলস রিপোর্টার অঙ্গীকারবদ্ধ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন