

ঘরোয়া ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ল জম্মু-কাশ্মীর। প্রথমবার ফাইনালে উঠেই রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হল তারা। তাও আবার কর্ণাটকের মতো শক্তিশালী দলকে তাদের ঘরের মাঠেই হারিয়ে সেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। মাঠে বসে জয় উপভোগ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।
রঞ্জি ফাইনালে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ৫৮৪ রানের পাহাড় গড়ে জম্মু-কাশ্মীর। সেঞ্চুরি করেন শুভম পুণ্ডির। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৯৩ রানেই শেষ হয়ে যায় কর্ণাটকের প্রথম ইনিংস। আকিব নবি ৫৪ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। কর্ণাটকের হয়ে একমাত্র লড়াই চালান ময়ঙ্ক আগরওয়াল। ১৬০ রান করেন তিনি।
কর্ণাটক অত্যন্ত শক্তিশালী দল। এই দলে কে এল রাহুল, করুণ নায়ার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, দেবদত্ত পাড়িক্কলের মতো তারকা ক্রিকেটাররা রয়েছেন। অথচ ঘরের চেনা মাঠে জম্মু-কাশ্মীরের মতো প্রথমবার ফাইনালে ওঠা দলের সামনে দাঁড়াতেই পারলো না কর্ণাটক।
২৯১ রানে লিড পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জম্মু-কাশ্মীরের রঞ্জি জয় এক রকম নিশ্চিত হয়ে যায়। কর্ণাটককে তাদের ঘরের মাঠে ফলো অন না করিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জম্মু-কাশ্মীর। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে সাময়িক চাপেও পড়ে যায় জম্মু-কাশ্মীর। কিন্তু হার মানেননি ওপেনার কামরান ইকবাল। ১৬০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন সাহিল লোতরা। ৪ উইকেটে ৩৪২ রান তুলে পঞ্চম দিনের চা-পান বিরতির অল্প কিছুক্ষণ আগে দ্বিতীয় ইনিংস ছাড়ে ইকবালরা। মোট ৬৩৩ রানের লিড। সেইসময় এই বিপুল রান তাড়া করা সম্ভব ছিল না রাহুলদের পক্ষে। করমর্দন করে নেন দুই দলের অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন আকিব নবিরা।
ফাইনাল তো দূরের কথা, কোনওদিন রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালেও ওঠেনি জম্মু-কাশ্মীর। এবার নক-আউট পর্বে বাংলা, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটকের মতো বড় বড় দলগুলিকে হারাল তারা। রাজ্যের এই জয় মাঠে বসে উপভোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। দলের জন্য তিনি ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
জম্মু-কাশ্মীরে ক্রিকেটের অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নেই। বছরের কয়েক মাস তো খেলার মতো আবহাওয়া থাকে না। তাদের এই জয় তাই বিস্মিত করেছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের। বলা ভালো, আনন্দিত, অভিভূত ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। কেবল মানসিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস একটা দলকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছেন আকিব নবিরা।
টুর্নামেন্টের সেরা আকিব নবিকে ভারতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “জম্মু-কাশ্মীর গোটা দুনিয়াকে দেখিয়ে দিল, পরিশ্রম ও খিদে থাকলে কী সম্ভব। ওরা ওদের এলাকাকে গর্বিত করেছে। কঠিন পরিবেশ মানুষকে শক্তিশালী করে। আকিব নবি জাতীয় দলে খেলার যোগ্য। ইংল্যান্ডে ওর অভিষেক হওয়া উচিত।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন