

ওয়াংখেড়েতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স-এর কাছে হারের পরে ঘরের মাঠে ইডেনেও ফের লজ্জার হার দেখল শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ৬৫ রানে পরাজিত হল নাইট শিবির। কোনও অজুহাত দেব না বলেও পিচকে কাঠগড়ায় তুললেন কলকাতা অধিনায়ক অজিঙ্কে রাহানে।
এদিন টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন রাহানে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট করতে থাকা ট্র্যাভিস হেড কেকেআর বোলারদের উপরে চাপ তৈরি করেন। অজি তারকা যখন ৩৪ রানে ব্যাট করছেন, তখন তাঁর ক্যাচ ফেলেন রাহানে। ম্যাচ যত গড়ায় আরও ক্যাচ ফেলেন নাইটরা।
এর উপর যন্ত্রণা বাড়ান বরুণ চক্রবর্তী। পাওয়ারপ্লেতে বল হাতে একেবারেই কার্যকর হতে পারেননি তিনি। তাঁর এক ওভারে ২৫ রান নেন অভিষেক শর্মা। হায়দরাবাদের রান তোলার গতি তখন এক্সপ্রেস গতিতে দৌড়চ্ছে।
তবে নাইটদের স্বস্তি এনে দেন কার্তিক ত্যাগী। নিজের স্পেলের চতুর্থ বলেই তিনি আউট করেন হেডকে। ২১ বলে ৪৬ রান করে ফেরেন এই অজি তারকা। ৮২ রানে প্রথম উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। এরপর সানরাইজার্সের গতি আটকে দেন নাইট পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। মোট চারটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২২৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেন ইশানরা।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ১৬ ওভারেই ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় কেকেআর। শুরুটা দারুণ হয়েছিল কেকেআরের। প্রথম ওভারেই ২৪ রান তুলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন ফিন অ্যালেন। মাত্র ৮ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেও হর্ষ দুবের দুর্দান্ত ক্যাচে তাঁর ইনিংসের ইতি ঘটে। এরপর আর ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি নাইটদের ব্যাটাররা। অধিনায়ক রাহানে আবারও ব্যর্থ। ১০ বলে মাত্র ৮ রান করে ফিরতে হয় তাঁকে। মাঝের ওভারে অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ও রিঙ্কু সিং কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। রঘুবংশী ২৯ বলে ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও রান আউট হয়ে ফিরে যান। রিঙ্কু ৩৫ রান করলেও শেষরক্ষা করতে পারেননি।
হারের পরে সেই ঘুরিয়ে ইডেনের পিচকেই দুষলেন নাইট অধিনায়ক রাহানে। তিনি বললেন, 'আমরা মনে হয়েছে, দ্বিতীয় ইনিংসে বল পিচে পড়ে একটু থামছিল। প্রথম ইনিংসের তুলনায় দ্বিতীয় ইনিংসে মন্থর বল খেলা বেশ কঠিন হচ্ছিল। আমরা সেটা বুঝতে পারিনি। ভেবেছিলাম, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা সহজ হবে। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং কঠিন হয়ে পড়ল। তবে অজুহাত দিচ্ছি না।“
তিনি আরও বলেন, আমরা শুরুটা ভাল করেছিলাম। পাওয়ার প্লে-তে ৭৮ রান ছিল। কিন্তু মাঝের ওভারে পর পর উইকেট হারালাম। হায়দরাবাদের বোলারেরাও ভাল বল করেছে। গতির হেরফের করেছে। আমরা ভাল ব্যাট করতে পারিনি। তবে একটা ম্যাচে সেটা হতেই পারে। ব্যাট করার সময় আরও ইতিবাচক থাকতে হবে। পঞ্জাব ম্যাচে জয়ের জন্য ঝাঁপাতে হবে। হাতে সময় আছে।“
তাঁর ফর্ম এবং স্ট্রাইকরেট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বললেন, “আমার স্ট্রাইক রেটের প্রসঙ্গ উঠলে বলব, ২০২০ সাল থেকে আমার স্ট্রাইক রেট দেশে সেরা। যাঁরা আমার স্ট্রাইক রেট নিয়ে কথা বলছেন, তাঁরা হয়তো আমার খেলা দেখেন না। যাঁরা বলেন, তাঁরা হয়তো আমার খেলা দেখা পছন্দ করেন না। আমি যতটা সফল হয়তো সেটা নিয়ে তাঁরা আমাকে হিংসে করেন। আমি এসব নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নই। এটাকে শুধু আমি একটা খারাপ দিন হিসাবে ব্যাখ্যা করব।“
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন