দু'গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে হার। আর সেই হারের পরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ইজিপ্টের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর দাবি, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং ও Video Assistant Referee (VAR)–এর একাধিক সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলে প্রভাব ফেলেছে।
মঙ্গলবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই চমক দেয় মিশর। ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মোস্তাফা জিকো অনবদ্য গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। খেলার এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনার সামনে অপ্রতিরোধ্য লাগছিল ইজিপ্টকে।
যদিও নাটকীয়ভাবে এর কিছুক্ষণ পরেই বদলে যায় সেই ছবি। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমানোর পর লিওনেল মেসির গোলে খেলায় সমতা ফেরে। শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা।
তবে ম্যাচ শেষে ফলাফল নয়, আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এদিনের ম্যাচের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। যা নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা কার্যত দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে যেমন বহু প্রখ্যাত ফুটবল বোদ্ধা গতকালের ম্যাচে রেফারিং-এর সমালোচনা করেছেন অন্যদিকে অনেকেরই বক্তব্য রেফারিং ঠিকই ছিল।
ইজিপ্টের অভিযোগ, প্রথমার্ধে মোস্তাফা জিকোর একটি গোল VAR–এর হস্তক্ষেপে বাতিল করা হয়। আবার আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে হামদি ফাথির ওপর ফাউল হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। এমনকি ঘটনাটি VAR–এও পর্যালোচনা করা হয়নি।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইজিপ্টের কোচ হাসান বলেন, তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তিনি বলেন, “এটাকে আমি দুর্ভাগ্য বলব না। আমরা বঞ্চিত হয়েছি। ম্যাচে আমাদের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হয়নি।"
তিনি ইঙ্গিত দেন যে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় তারকা লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে রাখার চাপও হয়তো কাজ করেছে। হাসানের ভাষায়, “হয়তো কেউ চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এগিয়ে যাক। হয়তো মেসিকে প্রতিযোগিতায় রাখারও একটা ইচ্ছা ছিল। ফুটবলে কখনও কখনও মাঠের বাইরের বিষয়ও প্রভাব ফেলে।”
তবে বিতর্কের মধ্যেও নিজের দলের প্রশংসা করতে ভোলেননি তিনি। ইজিপ্টের অধিকাংশ ফুটবলার ঘরোয়া লিগে খেললেও তারা শক্তিশালী আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেছে বলে মনে করেন হাসান।
এদিকে ম্যাচের সময়সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। শেষ ৩২-এর ম্যাচের মাত্র চার দিন পর দুপুর ১২টায় খেলা আয়োজনকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন মিশর কোচ।
তার মতে, এমন সময়ে ম্যাচ আয়োজন খেলোয়াড়দের জন্য মোটেও আদর্শ নয় এবং বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন