এভাবেই ফিরে আসা যায়! ৮৫ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরেও জয় তুলে নিলো বেলজিয়াম। চরম নাটকীয় ম্যাচে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একপ্রকার শিহরণ জাগানো ফুটবল খেললেন রোমেলু লুকাকুরা। নির্ধারিত সময়ে ফলাফল নিষ্পত্তি না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ালে, ১২৫ মিনিটের মাথায় গোল করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় বেলজিয়াম। অন্যদিকে, শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলেও তীরে এসে তরি ডুবলো সেনেগালের।
খেলার শেষ মুহূর্তে ভার প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সেনেগালের বিরুদ্ধে দেওয়া পেনাল্টি নিয়েও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বহু ফুটবল বিশেষজ্ঞই দাবি করেছেন ওই পেনাল্টির সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। গ্যারি নেভেল, জন ওবি মাইকেলের মত একাধিক প্রাক্তন তারকা খেলোয়াড় প্রশ্ন তুলেছেন শেষ মুহূর্তের ওই পেনাল্টি নিয়ে। যদিও সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও এই পেনাল্টির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
বেলজিয়ামের এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে 'শেষ ষোলো' - এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বেলজিয়াম। আজ সেনেগালের বিপক্ষেও একইভাবে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে সেই মহাকাব্যিক স্মৃতিই ফিরে আনলেন রেড ডেভিলরা।
বৃহস্পতিবার সিয়াটেলে, শুরু থেকেই বেলজিয়ামের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল সেনেগালই। আফ্রিকান লায়ন্সরা ম্যাচের ২৪ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায়। সাদিও মানের ক্রসে ইসমাইলা সারের হেড আটকে যায় পোস্টে। তবে কাছেই থাকা হাবিব দিয়ারা বল পাঠিয়ে দেন জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে সেনেগাল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেলজিয়াম মাঠে নামায় রোমেলু লুকাকুকে। তবে লুকাকু নামার পরপরই ফের একটি গোল খেয়ে বসেন কেভিন ডি ব্রুইনরা। গোল করেন ইসমাইলা সার। চলতি বিশ্বকাপে সেনেগালের হয়ে চার গোল করেছেন ইসমাইলা সার, ছুঁয়েছেন ১৯৯০ বিশ্বকাপে রজার মিলারের গড়া আফ্রিকান ফুটবলার হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
২-০ গোলে এগিয়ে থাকা সেনেগাল জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু ৮৫ মিনিটের পর ১৬১ সেকেন্ডের এক ঝড়ে চোখের পলকেই স্কোর লাইন ২-২ করে ফেলে বেলজিয়াম। ৮৬তম মিনিটে ডানদিক থেকে থমাস মুনিয়েরের পাস পেয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে গোল করে ব্যবধান কমান লুকাকু। বেলজিয়ামের হয়ে এটি তার ৯২তম আন্তর্জাতিক গোল।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের গোল পেয়ে যায় বেলজিয়াম। লিসান্দ্রো ট্রসার্ডের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ইউরি ট্যালিমান্স। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফলাফল ২-২ থাকলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
ঘড়ির কাঁটায় তখন নির্ধারিত ও অতিরিক্ত মিলিয়ে ১২০ মিনিটের খেলা পেরিয়ে যোগ করা সময় চলছে! ডি বক্সের ভেতরে কামারার দ্বারা টিল্যামান্স ফাউলের শিকার হয়েছেন বলে দাবি তোলেন বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা। শুরুতে সাড়া না দিলেও ভিএআরে পর্যালোচনা করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ইউরি ট্যালিমেন্স পেনাল্টি থেকে গোল করেন। ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় বেলজিয়াম।