WB SIR: 'বিচারাধীন' ভোটার সংখ্যার শীর্ষে রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলি - রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে

People's Reporter: মুর্শিদাবাদে বিচারাধীন ১১,১,১৪৫ ভোটার। মালদহে এবং উত্তর দিনাজপুরে সংখ্যাটা যথাক্রমে ৮,২৮,১২৭ এবং ৪,৮০,৩৪১। অর্থাৎ তিন জেলায় মোট বিচারাধীন ২৪,৯,৬১৩ জন।
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবিসৌজন্যে - নিউজক্লিক
Published on

পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় গত সপ্তাহে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার আংশিক প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন অবস্থায় থাকা ভোটারের পরিসংখ্যান হিসেবে শীর্ষে আছে রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই তথ্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের নাম, ঠিকানা বা যোগ্যতা সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, তাঁদের সরাসরি বাদ না দিয়ে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায় রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ, তাঁদের ভোটাধিকার আপাতত স্থগিত নয়, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এই যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি, পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে মিল এবং বাসস্থানের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে।

রাজ্যের যে জেলাগুলিতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর দিনাজপুর। কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুর্শিদাবাদে বিচারাধীন ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫ ভোটার। মালদহে সংখ্যাটা ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ১২৭। আর উত্তর দিনাজপুরে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৪১। অর্থাৎ তিন জেলায় মোট বিচারাধীন রয়েছেন ২৪ লক্ষ ৯ হাজার ৬১৩ জন।

এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনায় এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিচারাধীনের সংখ্যা যথাক্রমে ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ২৫২ এবং ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৪২। অর্থাৎ দুই ২৪ পরগনায় বিচারাধীন মোট ১১ লক্ষ ১৩ হাজার ২৯৪ জন।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই জেলাগুলিতে মুসলিম জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বহু এলাকায় হাজার হাজার ভোটারের নাম এখনো যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। কিছু বিধানসভা কেন্দ্রে এই সংখ্যা দশ হাজারে পৌঁছেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। এই বিপুল বিচারাধীন ভোটার নির্বাচনী অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, অভিবাসনের দীর্ঘ ইতিহাস এবং নথিপত্র সংরক্ষণে ঘাটতি—সব মিলিয়ে বহু মানুষের ক্ষেত্রে কাগজপত্রে অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষত ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নামের মিল না পাওয়া গেলে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং এর উদ্দেশ্য হল ডুপ্লিকেট, মৃত বা অযোগ্য ভোটারের নাম সরিয়ে তালিকা শুদ্ধ করা। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে না।

বামেদের অভিযোগ, ''এই তালিকা থেকে স্পষ্ট বিশেষ করে সংখ্যালঘু অংশের বড়ো সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। ৯৭ শতাংশ ম্যাপিং হয়ে যাওয়া মালদহ, মুর্শিদাবাদের মত জেলায় সবথেকে বেশি মানুষকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।''

এর প্রতিবাদে আগামীকাল ৪ মার্চ, বুধবার কলকাতায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের অফিসের সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে রাজ্য বামফ্রন্ট

একই অভিযোগ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসেরও। ৬ মার্চ দুপুর ২টো থেকে কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে অবস্থানে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে বিজেপি এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে বলেছে, ভোটার তালিকা শুদ্ধ করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থেই জরুরি।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ স্পষ্ট। অনেকেই আধার, রেশন কার্ড বা পুরনো ভোটার কার্ড থাকা সত্ত্বেও নিজেদের নাম বিচারাধীন তালিকায় দেখে আতঙ্কিত। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো নথি যাচাই না হলে ভোটাধিকার হারাতে পারেন।

প্রতীকী ছবি
WB SIR: মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে চরম ক্ষোভ; ধস নামতে পারে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in