

প্রকাশ্যেই দলের সমালোচনা করলেন ওন্দা বিধানসভার দু’বারের বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ সখা। রাজ্যে বিজেপি সরকারে আসার পর দলের সাম্প্রতিক কাজকর্ম নিয়ে নিজের সমাজমাধ্যম পেজে তিনি এই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। লেখার শেষে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “কারও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই, শুধু একটাই নজর কামাইতে।” এর ঠিক একদিন আগেই প্রায় একই ধরণের পোষ্ট করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববিও।
গত ২৯ আগস্ট রাত ১০টা ৩ মিনিটে করা ওই পোস্টে বিধায়ক অমরনাথ সখা জানিয়েছেন, “আমি বহুদিন ধরেই দলটা করে আসছি তো, তাই কিছু জিনিস চোখে দেখলে না বলে থাকতে পারি না। কারোর মন রেখে চলি না, যেটা মনে হয় খারাপ সেটার প্রতিবাদ করি তার জন্য আমার প্রচুর শত্রু। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। সারা জীবনটাই আমার সংগ্রামের। কিছু মানুষ আছে যার কাছে যেমন তার কাছে তেমন, ওমনটা হতে পারিনি, আর হতে চাইও না।”
এর পরেই সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “…সরকার চলে এসেছে, এখন সব ভোগে ব্যস্ত। পার্টি যমের ঘরে যাক নিজেদের পেট ভরলেই হলো। সিপিআইএমকে কোনও কাউন্টার করা নেই, কিছু নেই, কোনও প্রতিবাদ নেই। সবাই এখান রিল বানাতে আর ফলোয়ার্স বানাতে, ফ্যান ক্লাব বাড়াতে ব্যস্ত। সরকার আসতে না আসতেই তাদের বৈভব বেড়ে গেছে।”
বিজেপি বিধায়ক জানিয়েছেন, “কী ছিলো আর কী হলো। দলের প্রতি এদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই। ওমুক দাদার অনুগামী না হয়ে দলের আগে অনুগামী হন। দাদারা আসবে যাবে দলটা থেকে যাবে।…কিন্তু কিছু মানুষের জন্য দলটার ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু কারও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই, শুধু একটাই নজর কামাইতে।”
অমরনাথ সখার এই পোস্টের ঠিক একদিন আগে ২৮ আগস্ট দুপুর ১২.৩৯ মিনিটে প্রায় একই ধরণের পোষ্ট করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিজেপির পরিচিত মুখ অভিজিৎ দাস ববি। যিনি ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ডায়মণ্ডহারবার কেন্দ্রে তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
নিজের পোস্টে এই বিজেপি নেতা লিখেছেন, “বলি হচ্ছেটা কী? মাননীয় রাজ্য সভাপতি শমীকদা, বারবার বারণ ও সতর্ক করে দেওয়া সত্ত্বেও, খিদে তো কমছেই না অনেকের? অদ্ভূত!! যারা সাইকেল চালাতো, তারা দামী বাইক কিনছে। যারা দুই চাকার বাইক চালাতো তারা দামী চার চাকার গাড়ি কিনছে। জমির পর জমি, ফ্ল্যাট কেনা হচ্ছে। তৃণমূলী হার্মাদদের হাতে, চারশো কর্মীর হত্যার বিনিময়ে, ক্ষমতায় আসার পর পদে থাকা ক্রিম খেকোদের দেখে লজ্জা হচ্ছে, কেন রাজনীতিতে এলাম! নামে রাজনীতি, ভিখারিতে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। যেখানে টাকা দেখছে, হামলে পড়ছে। এটাই কি পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের একাত্ম মানবতাবাদ? এটাই কি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি চেয়েছিলেন? ছিঃ!”
২০২১ এবং ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার ওন্দা কেন্দ্রে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী অমরনাথ সখা। ২০২১-এ তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ১১,৫৫১ এবং ২০২৬-এ তাঁর জয়ের ব্যবধান বেড়ে হয়েছে ৩১,৭২৩।
বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর গত কয়েক মাসে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও একাধিকবার দলে তোলাবাজির ঘটনায় সরব হয়েছেন এবং দলীয় কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরণের হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে একাধিক বিজেপি বিধায়কের মুখেও।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন