

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার ধাক্কা সরাসরি এসে পড়লো ভারতের শেয়ার বাজারে। ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হানাদারি এবং পাল্টা বিভিন্ন দেশে আমেরিকান ঘাঁটির ওপর ইরানের হানার পর সোমবার ভারতের শেয়ার বাজারে সেনসেক্স ও নিফটি যথেষ্টই টালমাটাল। এই মুহূর্তে সেনসেক্স দাঁড়িয়ে আছে ৭৯,৯২৮.৭৪ পয়েন্টে। নিফটিও পড়েছে প্রায় ৪০০ পয়েন্ট। দাঁড়িয়ে আছে ২৪,৭৭২.২০ পয়েন্টে।
সোমবার শেয়ার বাজার খোলার সময় ৩০ শেয়ারের বিএসই সেনসেক্স ছিল ২,৭৪৩ পয়েন্ট নিচে। গত শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় সেনসেক্স ছিল ৮১,২৭৮.১৯ পয়েন্টে। যা এদিন খুলেছে ৭৮,৫৪৩.৭৩ পয়েন্টে। যা এখনও পর্যন্ত এদিনের ডে লো। বাজারে এখনও পর্যন্ত এদিনের ডে হাই ৮০,৬৩২.৫৫ পয়েন্ট। এই খবর লেখার সময় সেনসেক্স দাঁড়িয়ে আছে ৭৯,৯২৯.৭৭ পয়েন্টে। পতন প্রায় ১,৩৬১ পয়েন্ট।
শুক্রবার নিফটি ৫০ বন্ধ হয়েছিল ২৫,১৭৮.৬৫ পয়েন্ট। যা এদিন খোলে ২৪,৬৫৯.২৫ পয়েন্টে। নিফটিতে এদিনের ডে লো ২৪,৬৪৫.১০ পয়েন্ট এবং ডে হাই ২৪,৯৮৯.৩৫ পয়েন্ট। এই মুহূর্তে নিফটি দাঁড়িয়ে আছে ২৪,৭৭৯.৪৫ পয়েন্টে, ৪০১.৫০ পয়েন্ট নেমে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং তার প্রভাবে তেলের বাজারে বড়ো রকমের টালমাটালের কারণে শেয়ার বাজারে পতন ঘটেছে। আগামী কয়েকদিনেও বাজারের উন্নতি হবার সম্ভাবনা কম।
এদিনের বাজারে ইন্ডিগো, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, ইটারনাল, আদানি পোরটস, এশিয়ান পেন্টস, আল্ট্রা টেক সিমেন্ট, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিস-এর দাম সবথেকে বেশি পড়েছে। যদিও সরকারি সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড সংস্থার শেয়ারের দাম অনেকটাই এগিয়ে আছে। দাম বেড়ে আছে হিন্দুস্থান এরোনেটিক্সেরও। এছাড়া ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড, ডাটা প্যাটার্নস ইন্ডিয়া লিমিটেড পারস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজির শেয়ারের দামও বেড়ে আছে।
সোমবার সকাল ১১টা ৪৫ নাগাদ বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের ৩,৪২০ শেয়ারের দাম নীচে নেমে রয়েছে, ৬৬৯টি শেয়ারের দাম বেড়ে রয়েছে এবং ১৯০ টি শেয়ারের দামের কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিএসই-র ৮১ টি শেয়ারের দাম এদিন ৫২ সপ্তাহে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ৭৬৪টি শেয়ারের দাম ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খোমেইনির মৃত্যুর পর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ। ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার থেকে বর্তমানে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৭২ থেকে ৭৩ ইউ এস ডলার। এছাড়াও হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেলের চলাচল নিরাপত্তার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়াতেও তেলের বাজারে বড়ো প্রভাব পড়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন