India US Deal: বাণিজ্য চুক্তিতে কৃষকদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ - পীযূষ গোয়েলের ইস্তফার দাবি AIKS-এর

People's Reporter: AIKS সভাপতি অশোক ধাওয়ালে, সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী “কৃষি ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বাইরে” বলে যে দাবি করেছিলেন তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
বিজু কৃষ্ণান, অশোক ধাওয়ালে এবং পীযূষ গোয়েল
বিজু কৃষ্ণান, অশোক ধাওয়ালে এবং পীযূষ গোয়েলফাইল ছবি, গ্রাফিক্স আকাশ
Published on

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষকদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’। সারা ভারত কৃষক সভা (AIKS)-র পক্ষ থেকে এই অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের ইস্তফা দাবি করা হয়েছে। সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি অশোক ধাওয়ালে এবং সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান শনিবার এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়েছেন। এআইকেএস-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী “কৃষি ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বাইরে” বলে যে দাবি করেছিলেন তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

এআইকেএস-এর আশঙ্কার কারণ কী?

বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এই চুক্তির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচা তুলো আমদানি করলে তা ভারতে তুলোর দাম অনেক কমিয়ে দেবে। ফলে ইতিমধ্যেই সংকটে থাকা মহারাষ্ট্র, গুজরাট, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশের তুলো চাষিরা আরও গভীর সংকটে পড়বেন।

কী জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার?

এআইকেএস জানিয়েছে, কাঁচা তুলো আমদানির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন “কৃষি মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আওতার বাইরে” এবং “প্রধানমন্ত্রী কখনই কৃষকদের স্বার্থের সাথে আপস করবেন না”। যদিও এই মিথ্যাচার এখন সামনে এসে গেছে এবং প্রমাণ হয়েছে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার স্বাক্ষরিত এফটিএ (Free Trade Agreement) 'মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতিচ্ছবি'।

কী জানাচ্ছে এআইকেএস?

এআইকেএস-এর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী যে যুক্তি দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভুল। মোট মার্কিন রপ্তানি তুলনামূলকভাবে সীমিত, তাই কৃষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং ভারত যদি আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে, তবুও দেশীয় তুলোর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হবে না বলে কেন্দ্রের দাবি সম্পূর্ণ ভুল। আমদানি বৃদ্ধির ফলে দেশীয় তুলোর দামের উপর তার প্রভাব পড়বে একথা অস্বীকার করা হচ্ছে। অতীতে এভাবেই কেরালা সহ অন্যান্য জায়গার রাবার চাষীরা ASEAN-ভারত FTA-এর পরে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। যখন দেশের তুলো চাষিরা ইতিমধ্যেই ক্রমাগত ফলন কমে যাওয়া এবং ক্রমশ চাষের খরচ বৃদ্ধির সাথে লড়াই করছে, তখন দাম আরও কমে গেলে বহু কৃষকই তুলো চাষ সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল চুক্তি প্রসঙ্গে কী জানিয়েছেন?

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, “ভারতের সামনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচা তুলা কেনার সুযোগ রয়েছে, যা কেনা হলে ভারতের তৈরি টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি শূন্য শতাংশ হবে”। তিনি আরও জানিয়েছেন, “যখন ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি চূড়ান্ত হবে, তখন বাংলাদেশকে যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে ভারতও সেই ছাড় পাবে।”

মন্ত্রীর দাবির বিরোধিতা করে কী জানাচ্ছে এআইকেএস?

মন্ত্রীর দাবিকে ‘সম্পূর্ণ কৃষকবিরোধী’ বলে জানিয়েছে এআইকেএস। সংগঠনের বক্তব্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচা তুলোর আমদানি ইতিমধ্যেই দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি হওয়া তুলোর দাম আরও কমিয়ে দেবে। ফলে সংকটে জর্জরিত, আত্মহত্যাপ্রবণ তুলা ক্ষেত্রগুলোতে ঋণের বোঝা তীব্রতর হবে এবং কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনাও বৃদ্ধি পাবে।

এআইকেএস-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে একথা স্পষ্ট যে, সরকার দেশীয় শিল্পপতিদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে উৎসাহিত করছে। অন্যদিকে ভারতীয় কৃষকদের সরাসরি বিশ্ব বাজারের প্রতিযোগিতার সামনে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু বাজারের কার্যকর সহায়তা ছাড়া ভারতের তুলো চাষীদের এই ধরনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।

ভারতের তুলো চাষ এবং রপ্তানি প্রসঙ্গে কী জানিয়েছে এআইকেএস?

ভারতের তুলো চাষ প্রসঙ্গে এআইকেএস জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ সালে ভারতে তুলো উৎপাদন হতে পারে আনুমানিক ২৯.২২ মিলিয়ন বেল। ২০২৪-২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ছিল ১৪.৪১ মিলিয়ন বেল, যা ভারতের উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। ভারত ইতিমধ্যেই ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে তুলোর উপর আমদানি শুল্ক শূন্যে নামিয়ে এনেছে। এই সময় ভারতে মার্কিন তুলা রপ্তানি ৯৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অবাধ বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হলে ভারতীয় কৃষকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং চীনের মতো দেশে তুলোচাষিরা প্রচুর ভর্তুকিপ্রাপ্ত এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত। এর সম্ভাব্য ফলাফল, ভারতের তুলো চাষিরা আরও দুর্দশাগ্রস্ত হবে।

এআইকেএস আরও জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে ভারতের বস্ত্র শিল্পের মূল্য প্রায় ১৭৯ বিলিয়ন ডলার বা ১৬,২৮,৯০০ কোটি টাকা। প্রায় ৮০% পণ্য অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহৃত হয় যার মূল্য ১৪২ বিলিয়ন ডলার বা ১২,৯২,২০০ কোটি টাকা। রপ্তানির হয় ৩৭ বিলিয়ন ডলার বা ৩,৩৬,৭০০ কোটি টাকার, যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১০.৭ বিলিয়ন ডলার বা ৯৭,৩৭০ কোটি টাকার, যা ভারতীয় শিল্পের মোট মূল্যের মাত্র ৬.২%।

ভারতে কৃষক আত্মহত্যা প্রসঙ্গে এনসিআরবি-র পরিসংখ্যান

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১০,৭৮৬ জন কৃষক এবং কৃষি শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন। এঁদের মধ্যে সর্বাধিক আত্মহত্যার ঘটনা মহারাষ্ট্রে (৩৮.৫%) এবং কর্ণাটকে (২২.৫%)। কৃষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতির জন্য নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতিকে দায়ী করে বলা হয়েছে, তুলোর ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে। কারণ দেশের তুলা চাষের অঞ্চল থেকেই বেশি কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

কৃষিক্ষেত্র থেকে যে ১০,৭৮৬ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ৪,৬৯০ জন কৃষক বা চাষী এবং ৬,০৯৬ জন কৃষি শ্রমিক। দেশে মোট আত্মহত্যার (২০২৩ সালে ১,৭১,৪১৮ আত্মহত্যা) ৬.৩% ছিল কৃষিক্ষেত্রে আত্মহত্যা। ৪,৬৯০ জন কৃষকের মধ্যে ৪,৫৫৩ জন পুরুষ এবং ১৩৭ জন মহিলা এবং ৬,০৯৬ জন কৃষি শ্রমিকের আত্মহত্যার মধ্যে ৫,৪৩৩ জন পুরুষ এবং ৬৬৩ জন মহিলা ছিলেন।

বিজু কৃষ্ণান, অশোক ধাওয়ালে এবং পীযূষ গোয়েল
Maharashtra: মহারাষ্ট্র সরকারের প্রতিশ্রুতি; CPIM-AIKS-এর নাসিক-মুম্বাই কৃষক লংমার্চ প্রত্যাহার
বিজু কৃষ্ণান, অশোক ধাওয়ালে এবং পীযূষ গোয়েল
Maharashtra: পালঘরে দাবি আদায়ের পর কৃষক-শ্রমিকের দাবি নিয়ে নাসিক থেকে মুম্বাই পদযাত্রায় CPIM-AIKS

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in