

I-PAC (Indian Political Action Committee) নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। জানা গেছে, আইপ্যাকের জমা দেওয়া নথিতে ২০২১ সালে হরিয়ানার রোহতকের একটি কোম্পানি থেকে যে ১৩.৫০ কোটি টাকার জামানতবিহীন ঋণ বা আনসিকিউর্ড লোন পাওয়ার উল্লেখ রয়েছে, সরকারি নথি অনুযায়ী বহু বছর আগেই সেই কোম্পানিটি অস্তিত্বহীন হয়ে গিয়েছিল। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, I-PAC তার আর্থিক নথিতে ঋণদাতা হিসেবে Ramasetu Infrastructure India (P) Limited নামের কোম্পানির উল্লেখ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ-এর রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সরকারি ডেটাবেসে এই নামের কোনো সংস্থার অস্তিত্ব নেই। বরং ২০১৩ সালে ওই ঠিকানায় Ramsetu Infrastructure India Private Limited নামের একটি সংস্থা নথিভুক্ত ছিল।
কর্পোরেট ডেটা সংগ্রাহক Zauba Corp- এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেসরকারি কোম্পানি হিসেবে Ramsetu Infrastructure India Private Limited অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। রিয়েল এস্টেট কার্যকলাপের সাথে জড়িত ছিল সংস্থাটি। অনুমোদিত শেয়ার মূলধন ছিল ৫ লক্ষ টাকা। কোম্পানিটির দুজন ডিরেক্টর ছিলেন - বিজেন্দর এবং বিক্রম, দুজনকেই ওই বছরের ১৮ অক্টোবর নিয়োগ করা হয়েছিল।
এরপর ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট কোম্পানিটির নাম নথিভুক্তের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। কোম্পানিজ অ্যাক্ট ২০১৩ এর ধারা ২৪৮(১) এর অধীনে এই কাজ করা হয়, যা ব্যবসা শুরু না করা বা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কোম্পানিগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
অথচ আইপ্যাকের দাখিল করা নথিপত্রে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে তারা এই কোম্পানি থেকে লোন পেয়েছিল। অর্থাৎ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার তিন বছর পর এই কোম্পানি থেকে লোন পেয়েছিল আইপ্যাক। শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালের ২৭ জুন আর একটি ঘোষণায় আইপ্যাক জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৩.৫০ কোটি ঋণের মধ্যে ১ কোটি টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে তারা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এই বিষয়ে জানতে আইপ্যাকের সহ প্রতিষ্ঠাতা তথা ডিরেক্টর প্রতীক জৈনকে ইমেল এবং ফোন করা হয়েছিল। তবে তিনি জবাব দেননি। অন্যদিকে Ramsetu Infrastructure India Private Limited-এর তৎকালীন ডিরেক্টররা জানিয়েছেন, সংস্থাটি কয়েক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় এবং আইপ্যাককে ঋণ দেওয়ার বিষয় সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না।
সম্প্রতি আইপ্যাকের সল্টলেকের অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। কয়লা পাচার কান্ডের তদন্তে এই তল্লাশি অভিযান করা হয়েছিল। তল্লাশি চলাকালীনই প্রথমে প্রতীক জৈন এবং পরে আইপ্যাকের অফিসে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উভয় জায়গা থেকেই বেশ কিছু ফাইল নিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। এই নিয়ে মামলার জল হাইকোর্ট ছাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গেছে। এই পরিস্থিতিতে এই তথ্য সামনে আসায় আইপ্যাকের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন