

এবার কি মুছে যাবে রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) অস্তিত্ব? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এর (Board of Peace) ঘোষণা এবং সাম্প্রতিক হুমকির পরে তেমনই মনে করছে বিভিন্ন মহল। মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সম্প্রতি বোর্ড অফ পিস-এর পক্ষে সওয়াল করেছেন। যাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। বিশ্বজুড়ে বিওপি নিয়ে এই বিতর্কের মাঝেই বুধবার ভারতের বামপন্থী দলগুলোর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগদানের জন্য মার্কিন আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রসংঘের কড়া সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, রাষ্ট্রসংঘের হাতে বিপুল ক্ষমতা থাকলেও কার্যক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ ব্যর্থ। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অথবা দুই দেশের সংঘাত থামাতে এই সংস্থাকে কখনোই কোনও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, যে কাজ রাষ্ট্রসংঘ করতে পারেনি সেই কাজ করে দেখাবে বোর্ড অফ পিস।
এর আগেই হোয়াইট হাউস জানিয়েছে বোর্ড অফ পিসের সর্বেসর্বা হবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে এই বোর্ড গাজা নিয়ে কাজ শুরু করবে। ইতিমধ্যেই বিশ্বের ৬০টি দেশকে এই সংস্থার সদস্য হবার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে গেলে খরচ করতে হবে ১০০ কোটি ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া, হাঙ্গেরি, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, ভিয়েতনাম, ভারত সহ একাধিক দেশকে এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে ২০২৫-এর নভেম্বর মাসে এই বোর্ড অফ পিস-কে অনুমোদন দিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘ। সেইসময় ঠিক হয়েছিল এই বোর্ডের মেয়াদ হবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এবং শুধুমাত্র গাজায় শান্তিপ্রতিষ্ঠার জন্য এই বোর্ড কাজ করবে। যদিও এই প্রস্তাব পেশের সময় রাশিয়া এবং চিন ভোট দেয়নি। এবার সেই বোর্ডকে হাতিয়ার করেই রাষ্ট্রসংঘের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চাইছেন ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে ভারতের বামপন্থী দলগুলি। তাদের মতে, এই বোর্ড ‘গাজা শান্তি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে। এই বোর্ডে যুক্ত হওয়া প্যালেস্তিনীয়দের স্বার্থের প্রতি ‘মারাত্মক বিশ্বাসঘাতকতা’ হবে।
বাম দলগুলির পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা, বাম দলগুলো, ভারত সরকারকে দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করছি যেন তারা তথাকথিত 'শান্তি বোর্ড' সম্পর্কিত মার্কিন প্রস্তাবিত অবস্থান গ্রহণ না করে, যার উদ্দেশ্য হলো 'গাজা শান্তি পরিকল্পনা' বাস্তবায়ন করা।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই বোর্ড ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রসংঘকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এক নতুন আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরি করতে চাইছে।”
বাম দলগুলোর পক্ষ থেকে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাহ্য করার মার্কিন প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করতে হবে। ভারত সরকারের উচিত এমন প্রস্তাব থেকে দূরে থাকা এবং প্যালেস্টাইন ও দক্ষিণ গোলার্ধের উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশ, যারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষার হুমকির সম্মুখীন, তাদের সমর্থনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো।”
বামেদের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন, সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবী, সিপিআই-এর ডি রাজা, সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লকের জি দেবরাজন, আরএসপি-র মনোজ ভট্টাচার্য এবং সিপিআইএমএল-এর দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন