

নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। রবিবার নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ’ (Truth)-এর এক পোষ্টে তিনি এই দাবি জানিয়েছেন বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। যদিও বায়ো হিসেবে যে ছবি তিনি পোষ্ট করেছেন তা ভুয়ো। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই দাবি জানালেও এখনও পর্যন্ত উইকিপিডিয়া বা অন্যান্য স্বীকৃত সংস্থায় ট্রাম্পের এই দাবিকে মান্যতা দেওয়া হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পোষ্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক হামলা এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Nicholas Maduro) এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে (Cilia Flores) অপহরণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট অফ জাস্টিস-এর নির্দেশে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ভেনেজুয়েলার উপরাষ্ট্রপতি ডেলসি রডরিগেজ। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের গতকালের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে তিনি ডেলসি রডরিগেজের দায়িত্বভার গ্রহণকে মান্যতা দিচ্ছেন না।
গতকাল ট্রুথে ডোনাল্ড ট্রাম্প উইকিপিডিয়ার এক বায়ো শেয়ার করেছেন। যে বায়োতে দেখা যাচ্ছে সেখানে লেখা আছে ‘অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট অফ ভেনেজুয়েলা’ জানুয়ারি ২০২৬ (Acting President of Venezuela – Incumbent 2026)। এছাড়াও সেখানে লেখা আছে আমেরিকার ৪৫ এবং ৪৭ তম রাষ্ট্রপতি। যদিও উইকিপিডিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বায়োতে এরকম কিছু এখনও লেখা নেই।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমেরিকাকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চমানের তেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করবে। যে তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং যে আয় মার্কিন প্রশাসন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। ওই তেল জাহাজের মাধ্যমে মার্কিন বন্দরে নিয়ে আসা হবে এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জ্বালানি সচিব করিস রাইটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন ‘নিরাপদ, যথাযথ এবং ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা হস্তান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রশাসনের তত্ত্বাবধান করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ক্ষমতার শীর্ষস্থানে শূন্যতা ভেনেজুয়েলার স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে। যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের অপহরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন