ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে কারাকাস থেকে অবৈধভাবে অপহরণ করে বন্দী করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে আমেরিকার বিভিন্ন শহরে। শিকাগো, ডালাস, ওহিও, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, পিটাসবারগ, সানফ্রান্সিসকো, মেক্সিকো, সিয়াটেল সহ বহু জায়গাতেই সাধারণ মানুষ পথে নেমে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা আছে, আমরা ভেনেজুয়েলায় কোনও যুদ্ধ চাইনা।
দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে শিকাগো কমিটি এগেন্সট ওয়ার অ্যান্ড রেসিজম এর অ্যান্ডি থেয়ার জানিয়েছেন, ইরাকের সাদ্দাম হুসেন হোক অথবা আফগানিস্তানের তালিবান অথবা পানামা, লিবিয়া – যে নামই নেওয়া হোক না কেন, যখনই আমেরিকা কোনও দেশ আক্রমণ করেছে সেই দেশের মানুষ সবথেকে বেশি ভুগেছে। তাই আমরা আর কোনও যুদ্ধ চাইনা।
আমেরিকার বিভিন্ন শহর জুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, তেলের জন্য রক্তপাত তাঁরা চাননা। ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন বন্ধ কর। বিক্ষোভকারীদের মতে, ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করার কোনও অধিকার নেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গতকালই ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে এড়িয়ে সাংবিধানিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে ভেনেজুয়েলায় হানা দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রসংঘের ঘোষিত নীতি ভঙ্গ করেছেন।
অ্যানসার (Act Now to Stop War and End Racism – ANSWER) নামের এক সংগঠনের পক্ষ থেকে টেলর ইয়াং জানিয়েছেন, আমাদের সরকার আমাদের করের টাকা ব্যবহার করে অন্য এক দেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। আমরা সেই দেশের প্রতি সংহতি জানাতে এখানে সমবেত হয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমরা এই সমাবেশ এবং দেশের অন্যান্য সমাবেশ থেকে বলতে চাই আমরা চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে এই অন্যায় কাজ আপনাকে করতে দেব না।
আমেরিকার পাশাপাশি গতকাল সারাদিন ভেনেজুয়েলা জুড়ে নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর মুক্তির দাবিতে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কারাকাসে বিক্ষোভকারীদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘ভেনেজুয়েলা কারোর কলোনি নয়’। ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের মুক্তি চাই’।
অধিকাংশ বিক্ষোভকারীদের মতে, নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কোনও একজনের বিশ্বাসঘাতকতায় আমেরিকার পক্ষে রাষ্ট্রপতি মাদুরোকে এত সহজে আটক করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। একই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিকোলাস মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা। তাঁর মতে তাঁর বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা কোনও গুপ্তচরের চক্রান্তেই এই ঘটনা ঘটেছে। নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকায় আটক করে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইতিহাস আমাদের জানাবে বিশ্বাসঘাতক কে ছিল।
শনিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ জানিয়েছেন, মাদুরোকে অপহরণ করার সময় ঠান্ডা মাথায় তাঁর নিরাপত্তারক্ষী এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সূত্র অনুসারে, নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
শুধু আমেরিকা অথবা ভেনেজুয়েলাতেই নয়। নিকোলাস মাদুরোকে অবৈধভাবে আটক করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে এথেন্স, তুরস্ক, কিউবা, আর্জেন্টিনা, ব্রিটেন, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশেও ভেনেজুয়েলায় আমেরিকান আগ্রাসনের নিন্দা করে বিক্ষোভ হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন