ভেনেজুয়েলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিশানায় কি কিউবা? রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, কিউবাতেও খুব তাড়াতাড়ি সরকারের পতন ঘটবে।
গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা খুবই দুর্বল দেশ। কলম্বিয়াও তাই। যে দেশ কোকেন তৈরি করে এবং আমেরিকায় বিক্রি করে। যদিও এটা তারা খুব বেশিদিন করতে পারবে না এটা স্পষ্টই জানিয়ে দিলাম। এরপরেই কিউবার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিউবারও পতন আসন্ন।
প্রায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুরেই কথা বলেছেন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং এই বিষয়ে আমাদের নীতি কী হবে, তা নিয়ে আপনাদের কিছু জানাচ্ছি না। কিন্তু আমার মনে হয় না এটা কোনো গোপন বিষয় যে আমরা কিউবান সরকারের খুব একটা সমর্থক নই, যারা কিনা মাদুরোকে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছিল।” রুবিওর এই বক্তব্যকে কিউবার প্রতি হুঁশিয়ারি বলেই মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। যেভাবে গত শনিবার ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় ঢুকে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আমেরিকায় তুলে নিয়ে এসেছে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চললেও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি ট্রাম্পকে।
গতকাল কিউবা প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কিউবা পতনের জন্য তৈরি। আমি জানিনা কীভাবে কিউবার পতন হবে। কিন্তু মনে হচ্ছে কিউবাও পতনের জন্য তৈরি হয়ে আছে। কিউবার আয়ের মূল উৎস ছিল ভেনেজুয়েলা, ভেনেজুয়েলার তেল। যদিও এখন আর তারা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পাবেনা। ফলে তাদের পতন অবশ্যম্ভাবী এবং আপনারা অনেক কিউবান আমেরিকানকে পাবেন যারা এই পতনে খুশি হবেন।
রবিবারই কিউবার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার সময় মার্কিন হানাদারিতে ৩২ জন কিউবান নাগরিকের প্রাণ গেছে। ৫ এবং ৬ জানুয়ারি তাঁদের স্মৃতিতে কিউবায় জাতীয় শোক পালন করা হবে বলেও জানিয়েছে কিউবা। প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলে কিউবা এবং ভেনেজুয়েলার অনুরোধেই কিউবান সৈনিকেরা ভেনেজুয়েলায় আছে।
কিউবা এবং কলম্বিয়াকে হুঁশিয়ারি দিলেও ট্রাম্পের নজরে আছে গ্রীনল্যান্ডও। গতকালই তিনি সাংবাদিকদের এই বিষয়ে জানিয়েছেন, গ্রীনল্যান্ডকে ঘিরে রয়েছে রাশিয়া এবং চিনের জাহাজ। আমাদের জাতীয় সুরক্ষার দিক থেকে গ্রীনল্যান্ড আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন