

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে আপাতত তিনি নিউ ইয়র্কের জেলে। সেখানেই তাঁর বিচার হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় ভেনেজুয়েলা সহ বিশ্বের একাধিক দেশ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে এবং এই ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘ
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস (António Guterres) বলেছেন, এই ঘটনায় "আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মকানুন মেনে চলা হয়নি বলে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন"। তিনি এই হামলার বিষয়ে "গভীরভাবে শঙ্কিত" এবং তাঁর মতে এই ঘটনা এক "বিপজ্জনক নজির" স্থাপন করেছে।
স্পেন
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ (Pedro Sánchez) পরিস্থিতি শান্ত করার এবং রাষ্ট্রসংঘের নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাতি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী কোনো হস্তক্ষেপকে তিনি স্বীকৃতি দেবেন না।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে বলেছেন, "স্পেন মাদুরো সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু এটি এমন কোনো হস্তক্ষেপকেও স্বীকৃতি দেবে না যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং এই অঞ্চলকে অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়।"
ব্রাজিল
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা (Luiz Inácio Lula da Silva) সতর্ক করে বলেছেন, এই ঘটনা সার্বভৌমত্বের প্রতি অত্যন্ত গুরুতর অবমাননা এবং এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন ট্যুইটার) তিনি লিখেছেন, এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করেছে। "আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনে বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা চালানো হিংসা, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার বিশ্বের দিকে প্রথম পদক্ষেপ।"
কলম্বিয়া
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো (Gustavo Petro) ভেনেজুয়েলার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন এবং অভিন্ন সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
চিলি
চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক (Gabriel Boric) ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন এবং বলেছেন এই সংকট অবশ্যই আলোচনা ও বহুপাক্ষিকতার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
কিউবা
কিউবান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল (Miguel Díaz-Canel) এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বলে অভিহিত করেছেন এবং এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জরুরি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মেক্সিকো
মেক্সিকোর বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "মেক্সিকান সরকার বলিভারীয় প্রজাতন্ত্র ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ে একতরফাভাবে পরিচালিত সামরিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এই ঘটনা রাষ্ট্রসংঘের সনদের ২ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।"
চিন
চিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি সার্বভৌম দেশ এবং তার রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ঘটনায় তারা 'গভীরভাবে মর্মাহত এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে'।
রাশিয়া
রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র আগ্রাসন'-এর অভিযোগ এনেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আজ সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়।"
"এই ধরনের পদক্ষেপকে মান্যতা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত অজুহাতগুলো ভিত্তিহীন। ব্যবসায়িক বাস্তববাদ এবং বিশ্বাস ও নির্ভরযোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছার থেকেও আদর্শগত শত্রুতা প্রাধান্য পেয়েছে।"
"বর্তমান পরিস্থিতিতে, সবথেকে আগে জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতিকে আরও খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত।"
ইরান
ইরানের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার ঘটনাকে ‘দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।
জার্মানি
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ (Friedrich Merz) বলেছেন, মার্কিন অভিযানের আইনি মূল্যায়ন জটিল এবং এটি মূল্যায়ন করতে আমরা সময় নেব। আন্তর্জাতিক আইনের নীতি অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে। "নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধতা প্রাপ্ত একটি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে" এবং "ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না"।
নরওয়ে
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইদে (Espen Barth Eide) এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, "আন্তর্জাতিক আইন সার্বজনীন এবং সকল রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক। ভেনিজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভেনিজুয়েলায় গণতান্ত্রিক শাসনে শান্তিপূর্ণ রূপান্তরই একমাত্র কার্যকর পথ। এর জন্য এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন যা জনগণের অধিকারকে সম্মান করে।"
ইসরায়েল
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে আপনার সাহসী ও ঐতিহাসিক নেতৃত্বের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন। আমি আপনার দৃঢ় সংকল্প এবং আপনার সাহসী সৈন্যদের চমৎকার পদক্ষেপকে স্যালুট জানাই।"
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন