

বিএমসি-র পরবর্তী মেয়র কে? দেশের বৃহত্তম অর্থবান পুরসভার পরবর্তী মেয়র পদ ঘিরে এখন আবর্তিত হচ্ছে মহারাষ্ট্রের জোট রাজনীতি। খাতায় কলমে মহাযুতি শিবিরের বিজেপি এবং একনাথ শিন্ধে জোটের জয়ের পরেও তারাই যে ক্ষমতা দখল করবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বৃহণমুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন-এর মেয়র পদ নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। ২৮ জানুয়ারির আগে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছুই হবে না।
এই প্রথম বিএমসি-তে বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও মেয়রের শপথ নেবার পরিস্থিতি তৈরি হলেও তা যে হবেই এখনও পর্যন্ত তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি এই বিষয়ে নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে শিবসেনাকে ভেঙে দু’টুকরো করা একনাথ শিন্ধেও যদি নিজের দলের কাউকে না মেয়রের পদে বসাতে পারেন তাহলে নিজেকে বালাসাহেব ঠাকরের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন না। ধাক্কা লাগবে মারাঠা আত্মাভিমানে। যা আগামীদিনে তাঁর পক্ষে চরম ক্ষতিকারক হবে।
সবদিক বিবেচনা করেই গতকাল নিজের দলের নির্বাচিত ২৯ কর্পোরেটরকে মুম্বাইয়ের এক পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে গেছেন একনাথ শিন্ধে। ঠিক কোন আশঙ্কায় একনাথ শিন্ধে নিজের দলের কর্পোরেটদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে দিয়েছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে জল্পনার মাঝেই শিন্ধে শিবির থেকে দাবি এসেছে মেয়র পদের। শিন্ধেসেনা শিবিরের দাবি, প্রথম আড়াই বছর তাদের দল থেকেই মেয়র করতে হবে। কারণ দলের ভেতর থেকে ওঠা এই দাবি নিয়ে যথেষ্ট চাপে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ধে।
একদিকে নিজের দলের ভেতর থেকে চাপ, অন্যদিকে নির্বাচিত কর্পোরেটরদের ভাঙিয়ে নেবার আশঙ্কা তিনি করছেন। সেই আশঙ্কা যেমন আছে উদ্ধব শিবিরের শিবসেনার দিক থেকে তেমনই আছে বিজেপির দিক থেকেও। ভুললে চলবে না যে, মহারাষ্ট্রে পুর নির্বাচনের আগেই একনাথ শিন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং যে বৈঠকের মূল বিষয় ছিল শিন্ধে শিবিরের নেতাদের বিজেপিতে যোগদান আটকানো। এছাড়াও যেভাবে তিনি ২০২২ সালে শিবসেনাকে ভেঙে উদ্ধব সরকারের পতন ঘটিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন সেই একই পদ্ধতিতে তাঁর দলও ভাঙা হতে পারে সেটাও তিনি ভালো করেই জানেন।
রাজনৈতিক এই ডামাডোলের মধ্যেই গতকাল উদ্ধব ঠাকরের তাৎপর্যপূর্ণ এক পোষ্ট ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে। যে পোষ্টে তিনি লিখেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মারাঠিরা তাদের প্রাপ্য সম্মান পাবে ততক্ষণ এই লড়াই চলবে। একইভাবে এক খোলা চিঠিতে সদ্য উদ্ধবের সঙ্গে যোগ দেওয়া একসময়ের শিবসেনার শীর্ষ নেতা বর্তমানে এমএনএস দলের প্রধান রাজ ঠাকরে জানিয়েছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের অর্থ এই নয় যে আমরা হাল ছেড়ে দিলাম এবং সরে গেলাম। যদি আমরা দেখি মারাঠি মানুষের বিরুদ্ধে কোনও অন্যায় হচ্ছে আমাদের কর্পোরেটররা তখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। এর পাশাপাশি উদ্ধব ঠাকরের দলের মুখপাত্র সঞ্জয় রাউথ জানিয়েছেন, আমরা কোনোভাবেই বিজেপির কাউকে মুম্বাইয়ের মেয়র হিসেবে চাই না। আমাদের দলের সঙ্গেও অনেকেই যোগাযোগ রাখছেন।
সঞ্জয় রাউথ আরও বলেন, বিজেপি-শিবসেনা শিবিরের নির্বাচিত অনেক কর্পোরেটর ভয় পাচ্ছেন যে তাদের কেউ অপহরণ করতে পারে, হুমকি দিতে পারে অথবা ক্ষতি করতে পারে। তাই তাদের নিয়ে গিয়ে পাঁচতারা হোটেলে আটকে রেখে দেওয়া হয়েছে। একনাথ শিন্ধে তাজ হোটেলকে কারাগারে রূপান্তরিত করেছেন। তাঁকে অবিলম্বে ২৯ অথবা ২৫ জনকে মুক্তি দিতে হবে।
একনাথ শিন্ধের শিবসেনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আমরা ইচ্ছে করলেই যে কোনও মুহূর্তে এই দল ভেঙে দিতে পারি। কিন্তু আমরা গণতন্ত্রকে সম্মান করি বলে সেই কাজ করছি না। আর একনাথ শিন্ধে এখন নিজেই ভয় পাচ্ছেন যে বিজেপি তাঁর দল ভেঙে দিতে পারে।
বিএমসি নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে, বিজেপি পেয়েছে ৮৯ আসন এবং তাদের জোটসঙ্গী একনাথ শিন্ধের শিবসেনা পেয়েছে ২৯ আসন। অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা পেয়েছে ৬৫ আসন এবং কংগ্রেস ২৪ আসন। অঙ্কের হিসেবে বিএমসি দখলে রাখতে প্রয়োজন ১১৪ কর্পোরেটর।
সদ্য সমাপ্ত ভোটের ফলাফল অনুসারে বিজেপি শিবসেনা জোটের কাছে আছে ১১৮। অজিত পাওয়ারের এনসিপি-র ৩ ধরলে তা বেড়ে হবে ১২১। যদিও এনসিপি একক শক্তিতেই বিএমসি-তে লড়াই করেছে তবু রাজ্যে তারা রাজ্যে ক্ষমতাসীন মহাযুতির অংশ। অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ৬৫, কংগ্রেসের ২৪, এমএনএস-এর ৬ এবং এনসিপি-র ১ ধরলে তা হয় ৯৬। অর্থাৎ ক্ষমতা বৃত্ত থেকে অনেকটাই দূরে বিরোধী শিবির। তবে বিএমসি-তে মিম-এর ৮, সমাজবাদী পার্টির ২ কর্পোরেটকে বিরোধীদের সঙ্গে ধরলে তা বেড়ে হবে ১০৬। যা ক্ষমতা থেকে ৮ আসন দূরে। যা যে কোনও মূল্যে জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা বলেই মনে করছে ক্ষমতাসীন মহাযুতি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন