

ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ভারতে। রান্নার গ্যাস নিয়ে সঙ্কট দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে। পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি শহরে। হোটেল, রেস্তরাঁয় ব্যবহৃত বাণিজ্য়িক রান্নার গ্যাসের জোগানে টান পড়তে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। পশ্চিমবঙ্গ সহ তিনটি রাজ্যকে নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
মহারাষ্ট্র: সবথেকে বেশি প্রভাব অনুভূত হয়েছে মহারাষ্ট্রে। বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় মুম্বইয়ের ২০ শতাংশ হোটেল এবং রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার হোটেল এবং রেস্তরাঁগুলির সংগঠন ‘আহার’। ওই সংগঠনের দাবি, বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান আগের মতো স্বাভাবিক না-হলে, আগামী দু’দিনের মধ্যে শহরের ৫০ শতাংশ হোটেল বন্ধ করে দিতে হবে।
গৃহস্থালির গ্যাসেরও ঘাটতি দেখা গেছে। LPG ডিলাররা জানাচ্ছেন, জোগানে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় যাঁরা সময়ে গ্যাস বুক করেছিলেন, তাঁদের গ্যাস দিতে দেরি হচ্ছে।
মহারাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম শ্মশান ‘বৈকুণ্ঠ ধাম’-এ গ্য়াস নির্ভর দাহ পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুনে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। সেখানে কেবল বৈদ্যুতিক চুল্লিতেই পরিষেবা মিলছে। পুণে পৌরসভার কমিশনার নাভাল কিশোর রাম জানিয়েছেন, শহরে ২৭টি শ্মশান রয়েছে। এর মধ্যে LPG-র উপর নির্ভরশীল ১৮টি শ্মশান রয়েছে। জোগানে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি বুঝে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ: বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানে ঘাটতি দেখা যাওয়ায় কলকাতায় রেস্তরাঁ এবং বেকারিগুলি সমস্যায় পড়েছে। পার্ক সার্কাসের এক বিখ্যাত রেস্তরাঁর এক কর্মী সংবাদমাধ্যমে জানান, তাঁদের রেস্তরাঁয় রোজ ২৫টা গ্যাস লাগে। আজ ১০টা দিয়েছে। গ্যাস সাপ্লায়ার জানিয়েছেন, সাপ্লাই বন্ধ। একই বক্তব্য অন্যান্য কয়েকটি বড় রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষেরও।
মিষ্টির দোকান এবং বেকারিগুলিও সমস্যায় পড়েছে। কয়েক জায়গা থেকে বিক্ষোভের খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে কলকাতায় লিটারে ৫ টাকা করে অটোর LPG-র দাম বেড়েছে। এই ঘোষণার পরেই অটো চালকেরা বিভিন্ন এলপিজি পাম্পের বাইরে লাইন দিয়ে রয়েছেন। কিন্তু অমিল গ্যাস। পাম্পগুলির বাইরে পোস্টার লাগানো 'নো স্টক'। এর ফলে পরিবহন ব্যবস্থাও বাহ্যত হতে পারে।
কর্ণাটকঃ কর্ণাটকেও হোটেল এবং ব্যবসাক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বেঙ্গালুরু হোটেলস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ১০ মার্চ থেকে বেঙ্গালুরুর হোটেলগুলি চালানো দুষ্কর হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের জোরালো সঙ্কট দেখা গেছে।
যদিও আজও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়ল দাবি করেছেন, অন্যান্য দেশে জ্বালানি নিয়ে সঙ্কট তৈরি হলেও ভারতে এখনও সে রকম কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। সরকারি সূত্র মারফত জানা গেছে, ঘুরপথে ৪০টি দেশ থেকে জ্বালানি নিয়ে আসা হচ্ছে সরবরাহ মসৃণ রাখার জন্য।
এছাড়া, প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখতে ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার এক নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রীয় তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, আমদানি করা গ্যাস অগ্রাধিকারহীন খাত থেকে সরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারকারীদের দিকে পাঠাতে হবে। এলপিজি উৎপাদন, পরিবহনের জন্য সিএনজি এবং পাইপে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস ব্যবহারকারীদের এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ভারতে প্রায় ৩৩ কোটি ২০ লক্ষ এলপিজি গ্যাসের উপভোক্তা রয়েছেন। তাদের পরিষেবা বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন