Ajit Pawar: অজিত পাওয়ারের মৃত্যু: নেতৃত্ব সংকটে এনসিপি, জল্পনার কেন্দ্রে দলের ভবিষ্যৎ

People's Reporter: অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর তার দল কি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলবে অথবা অন্য কোনও পথে হাঁটবে মূল জল্পনা তা নিয়েই। বিশেষ এই পরিস্থিতিতে এনসিপি ভবিষ্যৎ নিয়েই মূল প্রশ্ন।
মহারাষ্ট্রের প্রয়াত উপমুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি বিধায়ক অজিত পাওয়ার
মহারাষ্ট্রের প্রয়াত উপমুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি বিধায়ক অজিত পাওয়ারফাইল ছবি সংগৃহীত
Published on

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর পর তাঁর নেতৃত্বাধীন এনসিপি গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ কী? শোকের প্রাথমিক আবহ কাটিয়ে তাঁর মৃত্যুর চব্বিশ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই এই প্রশ্নে জল্পনা তুঙ্গে। মহারাষ্ট্র বিধানসভায় মহাযুতির অংশীদার এনসিপি (এপি)-র আসনসংখ্যা ৩৭। এক্ষেত্রে বেশ কিছু সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিষয়টা যেহেতু রাজনৈতিক তাই এক্ষেত্রে সব সম্ভাবনারই দরজা খোলা। কী হতে পারে তা ভবিষ্যৎই বলবে।

রাজ্যের সদ্য শেষ হওয়া পুর নির্বাচনের সময়েই মহাযুতি জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে এনসিপি-র সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। যদিও এখনও তারা সরকারের শরিক। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর তার দল কি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলবে অথবা অন্য কোনও পথে হাঁটবে মূল জল্পনা তা নিয়েই। বিশেষ এই পরিস্থিতিতে এনসিপি ভবিষ্যৎ নিয়েই মূল প্রশ্ন। কারণ, অজিত পাওয়ারের মত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের শূন্যতা দ্রুত মিটিয়ে ফেলা খুব একটা সহজ নয়।

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে এনসিপি-তে যে বড়ো একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে তাতে সংশয় নেই। তাঁর অবর্তমানে দলের নেতা কে হবেন প্রশ্ন আছে তা নিয়েও। একটি সূত্র অনুসারে বলা হচ্ছে, অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকেই নেতৃত্ব দেওয়া হোক এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী করা হোক। মহাযুতির প্রধান শরিক বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ধরণের কোনও প্রস্তাব না এলেও এনসিপি-তে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ তাঁর ছেলের নামও করেছেন।

সেক্ষেত্রে রাজ্যসভা সাংসদ সুনেত্রা পাওয়ারকে রাজ্যের কোনও বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। জানা গেছে ইতিমধ্যেই এনসিপি-র শীর্ষ নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল, ছগন ভুজবল, ধনঞ্জয় মুন্ডে, সুনীল ততকারেরা এই বিষয়ে সুনেত্রা পাওয়ারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন।

অন্য একটি সূত্র অনুসারে প্রফুল্ল প্যাটেল, যিনি বর্তমানে দলের কার্যকরী সভাপতি, তিনি নেতৃত্ব নিতে ইচ্ছুক। যদিও প্রফুল্ল প্যাটেলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দলেই সংশয় আছে। কারণ সেই অর্থে জনগণের নেতা তিনি নন। বারামতী এবং সংলগ্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক কাজের দৌলতে তুলনামূলকভাবে অনেক পরিচিত সুনেত্রা পাওয়ার।

এখনও পর্যন্ত যা জানা গেছে যে দলের একটা বড়ো অংশই শারদ পাওয়ারের এনসিপি-র সঙ্গে দলের মিলন চাইছেন। যে বিষয়ে অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর আগেই আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং যে আলোচনা চালাচ্ছিলেন এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর নেতা, তুতো ভাইবোন সুপ্রিয়া সুলে এবং অজিত পাওয়ার।

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আছে অন্য একটি বিষয়েও। রাজ্য রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এনসিপি-র বেশ কিছু বিধায়ক সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। বিশেষ করে যারা বর্তমানে মহারাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীত্ব সামলাচ্ছেন। কারণ শারদ পাওয়ারের গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিত হয়ে গেলে এনসিপি (এসপি)-র বর্তমান অবস্থান অনুসারে বিরোধী পক্ষে যেতে হবে। যদি না উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শারদ পাওয়ার গোষ্ঠীও শিবির বদল করে।

তবে এই বিষয়ে ঘোরতর আপত্তি আছে খোদ বিজেপির অন্দরেই। কারণ বিজেপি শিবিরের একটা বড়ো অংশই চান না শারদ পাওয়ারের এনসিপি শিবির বদল করুক। তাই বিজেপি শিবিরের কেউ কেউ চাইছেন প্রফুল্ল প্যাটেলকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় নিয়ে গিয়ে সুনেত্রা পাওয়ারকে রাজ্যেই কোনও পদ দেওয়া হোক। সেক্ষেত্রে এনসিপি-র দুই শিবিরের মিলন আটকানো যাবে।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে এনসিপি-তে ভাঙন ধরিয়ে মহাযুতি শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। সেইসময় তাঁর সঙ্গে ৪০ জন বিধায়ক এবং দলের বেশ কিছু শীর্ষ নেতা শারদ পাওয়ার শিবির ছেড়ে অজিত পাওয়ারের সঙ্গে গেছিলেন। মহারাষ্ট্রের শেষ বিধানসভা নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক পুর নির্বাচনে অজিত পাওয়ারের দল অনেকটাই শক্তি সঞ্চয় করেছে এবং শারদ পাওয়ার শিবিরের শক্তিক্ষয় হয়েছে। যদিও তার আগেই দুই শিবিরের মধ্যে একসাথে চলার প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে গেছিল। এমনকি আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনেও এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর একজোট হয়ে লড়াই করার কথা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এক অংশের মতে একমাত্র এনসিপি-র দুই গোষ্ঠীর মিলনেই দল শক্তিশালী হতে পারে। যদি তা না হয় এবং দুই শিবির আলাদা আলাদা ভাবেই মহাযুতি এবং মহা বিকাশ আঘাদিদে থেকে যায় সেক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে এনসিপি অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর ভেঙে যাবার কিংবা একটা বড়ো অংশ বিজেপিতে মিশে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। আগামী দিনে এনসিপি কোন পথে যাবে এবং কীভাবে অজিত পাওয়ারের শূন্যস্থান পূরণ করবে তা স্পষ্ট হবার জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়া দরকার।

মহারাষ্ট্রের প্রয়াত উপমুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি বিধায়ক অজিত পাওয়ার
BMC Election: বিএমসি নির্বাচনে বিজেপি-শিন্ধেসেনার আসনরফা চূড়ান্ত, একলা চলছেন অজিত পাওয়ার
মহারাষ্ট্রের প্রয়াত উপমুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি বিধায়ক অজিত পাওয়ার
Maharashtra: বারামতীতে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের, নিহত আরও ৫

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in