মধ্যরাতের পর প্রায় ১৭ লক্ষ ভোট। মাত্র ছয় সেকেন্ডের ব্যবধানেই পড়েছে সেই ভোটগুলো। দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ২০২৪ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ করলেন অর্থনীতিবিদ পরাকলা প্রভাকর। এই নির্বাচনে এনডিএ জোট নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে। ১৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৪টিতেই জয়ী হয় তারা।
অর্থনীতিবিদ পরাকলা প্রভাকরের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশ নির্বাচনের পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক। তিনি জানান, মোট প্রাপ্ত ভোটের প্রায় ৪.১৬ শতাংশই পড়েছে রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ২টার মধ্যবর্তী সময়ে। রাজ্যের প্রায় ৩,৫০০টি ভোটকেন্দ্রে রাত ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলেছে।
তিনি আরও বলেন, রাত ৮টা থেকে রাত ২টোর মধ্যবর্তী সময়ে প্রায় ৫২ লক্ষ ভোট নথিবদ্ধ হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়টি হলো, মধ্যরাতের পর প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে।
প্রভাকর প্রশ্ন তোলেন, “যদি একটি ইভিএম (EVM) রিসেট হতে ১৪ সেকেন্ড সময় নেয়, তবে কীভাবে মাত্র ৬ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভোট পড়ছিল? একজন ভোটার কি ওই সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে, ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন? এটা বাস্তবসম্মত?”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি নিশ্চিত রাত ৮টার পর অস্বাভাবিক কিছু একটা ঘটেছে।“ প্রভাকরের পাশাপাশি যোগেন্দ্র যাদব, প্রশান্ত ভূষণও এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এই নির্বাচনে এনডিএ জোট বিপুল আসনে জয়ী হয়। ১৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৪টিতেই জয়ী হয় তারা। চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি (TDP) ১৩৫টি আসনে, বিজেপি ৮টি এবং পবন কল্যাণের জন সেনা ২১টি আসনে জয়ী হয়েছিল। চতুর্থবারের মতো অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফিরে এসেছিলেন চন্দ্রবাবু নাইডু।
বিরোধী দল এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরাও এর আগে ভোট পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
২০২৪ সালের ১৩ মে বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) সংবাদমাধ্যমকে জানান ৬৮.০৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরপর রাত ৮টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) জানায়, ভোটদানের হার ৬৮.১২ শতাংশ। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে নির্বাচন কমিশন এই হার সংশোধন করে ৭৬.৫০ শতাংশ বলে উল্লেখ করে। চার দিন পর প্রকাশিত ভোটার উপস্থিতির চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে এই হার ৮১.৭৯ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়।
তবে গরমিল নিয়ে সরব হতে দু’বছর সময় লাগল কেন, নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই প্রশ্ন তোলা হয় বলে জানিয়েছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন