পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ হল সোমবার রাতে। নির্বাচন কমিশন ১২তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গেই রাত ১২টার পর তালিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্রিজ়’ হয়ে যায়। অর্থাৎ, এই তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরাই আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্ট নতুন কোনও নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে।
এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি নাম যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষায় ছিল। সেই সব নামের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর ন্যস্ত করা হয়। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির মনোনীত বিচারকেরা নথি খতিয়ে দেখে ঠিক করেন কারা তালিকায় থাকবেন এবং কারা বাদ পড়বেন। যোগ্য প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আর যাঁদের অযোগ্য বলা হয়েছে তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে।
এই বাদ পড়া ভোটারদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে শাসকদল এবং বিরোধী বাম এবং কংগ্রেস একযোগে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এক ট্রাইবুনাল গঠিত হয়, যেখানে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিরা আপিল করতে পারেন। অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ট্রাইবুনালে জমা পড়া আবেদনগুলি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন বিচারপতিদের। ইতিমধ্যেই কিছু ক্ষেত্রে ট্রাইবুনালের নির্দেশে কয়েকজনের নাম পুনরায় তালিকায় যুক্ত হয়েছে, বিশেষ করে কিছু প্রার্থীর নাম। তবে মোট কতজন বাদ গিয়েছেন বা কতজন আবেদন করেছেন, তার স্পষ্ট পরিসংখ্যান এখনও সামনে আসেনি।
এবারের চূড়ান্ত তালিকায় মূলত তিন ধরনের ভোটার রয়েছেন—ফেব্রুয়ারির তালিকায় থাকা পুরনো নাম, নতুন করে আবেদন করে যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়া ব্যক্তিরা, এবং বিচারকদের কাছে ‘যোগ্য’ হিসেবে স্বীকৃত বিবেচনাধীন তালিকার ভোটাররা। তবে মার্চের শেষে নির্ধারিত সময়সীমার পরে নতুন আবেদন আর গ্রহণ করা হয়নি।
ট্রাইবুনালের কাজ এপ্রিলের শুরু থেকে চালু হওয়ার কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি। পরে চালু হলেও আবেদন ও নিষ্পত্তির সংখ্যা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। আদালতে এই বিষয়টি উত্থাপিত হলে জানানো হয়, ট্রাইবুনাল প্রয়োজন হলে নতুন নথিও বিবেচনা করতে পারবে। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে তা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তালিকা ফ্রিজ় হওয়ার পর কেউ যদি ট্রাইবুনালে আবেদন করেন বা পরে অনুমোদন পান, তাহলে কি তাঁরা এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন? বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, তা সম্ভব নয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের উপর।
উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়া নতুন কিছু নয়। প্রতিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ভোটার তালিকা স্থির হয়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন