

২০২৬-এর প্রথম পাঁচ মাসেই বিশ্বজুড়ে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা ছাড়ালো দেড় লক্ষ। বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থা থেকেই গত জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে এই ছাঁটাই হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন আগামী কয়েক মাসে এই ছাঁটাইয়ের সংখ্যা আরও বাড়বে। বছরের শেষে যে সংখ্যা পৌঁছে যেতে পারে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষের কাছাকাছি। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence - AI) প্রয়োগ এবং ব্যবহার ক্রমশ বেড়ে চলার কারণেই ছাঁটাইয়ের সংখ্যা আরও বাড়ছে। বিশ্বের বহু বড়ো সংস্থা এখন কর্মী ছাঁটাই করে এআই-তে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চাইছেন বলেও প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
বিগত কয়েক মাসে যে সমস্ত বড়ো সংস্থা থেকে ছাঁটাই হয়েছে তার মধ্যে আছে মেটা, ওরাকেল, উবের, ক্লাউডফেয়ার, পেপল, কোরা, সিসকো কয়েনবেসের মত সংস্থা। গত মাসেই পে পল জানিয়েছে তারা তাদের কর্মী সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমাবে। অর্থাৎ প্রায় ৪,৭৬০ জন কর্মী আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই সংস্থা থেকে ছাঁটাই হবেন। একইভাবে সিসকো ছাঁটাই করছে প্রায় ৪০০০ কর্মীকে। ক্লাউডফেয়ার থেকে মে মাসে ছাঁটাই হয়েছেন ১১০০ কর্মী। কয়েনবেস ছাঁটাই করেছে ৭০০ কর্মী।
লে অফ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ট্রু আপ-এর (trueup.io) তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ছাঁটাই হয়েছেন ২৭,৫২৩ জন কর্মী। শুধুমাত্র আমাজন থেকেই এই মাসে কাজ হারিয়েছিলেন ১৬ হাজার কর্মী। ফেব্রুয়ারি মাসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪,৮৮১-তে। চলতি বছরের সবথেকে বেশি ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে মার্চ মাসে। এই মাসে বিশ্বজুড়ে ছাঁটাই হন ৫০,৩৮৯ জন। এই মাসে সবথেকে বেশি কর্মী কাজ হারিয়েছিলেন ওরাকেল এবং ডেল থেকে। এপ্রিল মাসে ছাঁটাই হন ১২,০৭৬ জন। মে মাসে ছাঁটাই হয়েছেন ৩৪,৬৩৯ জন। যেখানে শুধু মেটা থেকেই ছাঁটাই হয়েছেন প্রায় ৮ হাজার কর্মী। জুন মাসে এখনও পর্যন্ত ছাঁটাই হয়েছেন ২,৪৯০ কর্মী।
লে অফস ডট এফওয়াই আই-এর (layoffs.fyi) তথ্য অনুসারে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ১৮৩টি প্রযুক্তি কোম্পানি ছাঁটাই করেছে ১,১৮,৩১২ জন কর্মী। ২০২৫-এ এই সংখ্যা ছিল ১,২৪,৬৩৬। ২০২৪-এ ছিল ১,৫২,৯২২। ২০২৩-এ ২,৬৪,৩২৯ এবং ২০২২-এ ১,৬৫,২৬৯। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরের এই ট্রেন্ড থেকে এটা স্পষ্ট যে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যে সংখ্যক ছাঁটাই হয়েছে তাতে বছরের শেষে ছাঁটাইয়ের মোট সংখ্যা আগের বছরগুলোকে ছাপিয়ে যাবে।
চলতি মাসেই ওপেন ডোর নামক সংস্থা ভারত থেকে তাদের পুরো টিম ছাঁটাই করেছে। এই সংস্থায় ভারতে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২৫০ জন। এই সংস্থা ভারতে আর তাদের অফিস রাখবে না বলেও জানিয়েছে। ওপেন ডোরের এই ছাঁটাইয়ের পরেই বিভিন্ন মহলে আউটসোর্সিং মডেল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মূলত আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে কাজ করেই ভারত প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশ্বে এক প্রধান স্থান দখল করেছে। যদিও এআই-এর অগ্রগতি আগামী দিনে হয়তো এই আউটসোর্সিং মডেলকেই বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বহু বিশেষজ্ঞ।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন