বিশ্বজুড়ে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) বয়কটের ডাক। যে আহ্বানের পর মাত্র কয়েকদিনে চ্যাটজিপিটি থেকে সাবস্ক্রিপশন প্রত্যাহার এবং ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছেন প্রায় ২৫ লক্ষ ব্যবহারকারী। কুইটজিপিটি নামক ওয়েবসাইট থেকে এই প্রচার চলছে এবং এই ওয়েবসাইট-ই দাবি করেছে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২.৫ মিলিয়ন ব্যবহারকারী এই বয়কটের অংশীদার হয়েছেন।
যারা এই বয়কটের ডাক দিয়েছেন, তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে আমেরিকান এবং বিশ্বজুড়ে অন্যান্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে তারা এই আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে চ্যাটজিপিটি-র নির্মাতা ওপেন এআই (OpenAI) এই বছরেই ১৪ বিলিয়ন ইউ এস ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ওই প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বজুড়ে মানুষ চ্যাটজিপিটি বয়কট করছেন। এই বয়কটের ডাক দিয়েছেন মার্ক রুফালো এবং কেটি পেরি নামক দু’জন। তাদের আবেদনের প্রভাবে মাত্র কয়েকদিনেই প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ নিজেদের চ্যাটজিপিটি ব্যবহার থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। এঁরা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এত বড়ো বয়কট হয়নি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতে ওপেন এআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুপার প্যাক ম্যাগা ইনকর্পোরেটেডকে ২৫ মিলিয়ন ইউ এস ডলার দান করেছেন। এই দান প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তাঁর অনুদান মানবতার কল্যাণে ওপেন এ-আই-এর লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে।
বয়কটের কারণ হিসেবে কুইটজিপিটি ডট ওআরজি জানাচ্ছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চ্যাটজিপিটি-র প্রতিযোগী অ্যানথ্রোপিক আমেরিকানদের ওপর ব্যাপক নজরদারি ছাড়াই এআই অস্ত্র তৈরির জন্য পেন্টাগনকে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্ল্যাটফর্মে অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চ্যাটজিপিটির সিইও স্যাম অল্টম্যান পেন্টাগনের এই চুক্তি গ্রহণ করেন। যা চ্যাটজিপিটির সমস্ত ব্যবহারকারীকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। এছাড়াও গ্রেগ ব্রকম্যান এবং তাঁর স্ত্রী অন্য যে কোনও বড়ো এআই সংস্থার অনুপাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২৬ গুণ বেশি অর্থ দিয়েছেন।
এক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ছাড়ার পর একাধিক ওপেন সোর্স-এর সন্ধান দেওয়া হয়েছে কুইটজিপিটি ডট ওআরজি-তে। যার মধ্যে আছে কনফের (Confer), অ্যালপাইন (Alpine), লুমো (Lumo) এবং গুগলের জেমিনি (Gemini) ও অ্যানথ্রোপিক-এর ক্লডে (Claude)। পাশাপাশি এই ওয়েবসাইট জানিয়েছে এলন মাস্কের গ্রোক আরও খারাপ এবং কেউ দয়া করে গ্রোক ব্যবহার করবেন না।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন