

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে মোদী সরকারের স্বপ্নের কর্মসূচী - এআই ইমপ্যাক্ট সামিট। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই সম্মেলন। দেশি-বিদেশি বহু অতিথি আমন্ত্রিত। তাদের সামনেই দু’দিনে দু’বার নাক কাটল ভারতের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষমাও চাইতে হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে। এই সমস্ত ঘটনায় কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
এই আন্তর্জাতিক সম্মলন, যাকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম এআই সম্মেলন’ বলে দাবি করেছে মোদী সরকার, সেখানে ইন্টারনেট সংযোগই ঠিক ছিল না প্রথম দিন। ওয়াই-ফাই ঠিকমতো কাজ না করায় সমস্যার মুখে পড়তে হয় অতিথিদের। এমনকি আটকে যায় ডিজিটাল মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনও। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির উপর ফোকাস করে হওয়া এমন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন ইন্টারনেট ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেকেই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দেন। এছাড়াও সর্বত্র অব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র দেখা গিয়েছে।
এরপর মঙ্গলবারও একই সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। যার জেরে ক্ষমা চান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেন, ‘’এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এআই সম্মেলন। বহু মানুষ এসেছেন। এখন আয়োজন মসৃণ। যদি সোমবার কেউ কোনও সমস্যায় পড়ে থাকেন, আমরা তার জন্য ক্ষমা চাইছি।‘’ প্রথম দিনে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ সম্মেলনে যোগদান করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এরপর ওইদিনই সন্ধ্যায় আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয় গ্রেটার নয়ডার বিশ্ববিদ্যালয় - গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেজেন্ট করা একটি রোবটকে কেন্দ্র করে। গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয় এআই সম্মেলনে একটি রোবট-কুকুর প্রদর্শন করে, তার পোশাকি নাম ‘ওরিয়ন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নেহা সিং দাবি করেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে এই রোবট-কুকুর তৈরি করেছে, যেটি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঘুরে বেরিয়ে নিজে নিজেই নজরদারি চালাতে পারবে। সমাজমাধ্যমে ‘ওরিয়ন’-এর ছবি সহ অধ্যাপকের বক্তব্য ভাইরাল হতেই হাসির রোল ওঠে। কারণ এটি আসলে ছিল চিনের তৈরি রোবট ‘ইউনিট্রি গো-২’। বাণিজ্যিক কারণে ওই রোবট ব্যবহার করে চিন। অনলাইনেও কিনতে পাওয়া যায়। ভারতীয় মুদ্রায় দাম প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। চিনা সংবাদমাধ্যমই প্রথম ফাঁস করে বিষয়টি।
বিতর্কের মুখে বুধবার গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সম্মেলন থেকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে সাফাইয়ের সুরে জানান, ‘’ আমাদের যে প্রতিনিধি প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি ভাল করে বিষয়টি জানতেন না। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও তাঁকে দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও তিনি বলেছেন। পণ্যটির উৎস সম্পর্কে ওঁর কোনও ধারণা ছিল না। ক্যামেরার সামনে কথা বলার উত্তেজনায় তিনি ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছেন।“
সবকিছু নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করে কংগ্রেস। কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে চীনা সংবাদমাধ্যমের ওই পোস্ট শেয়ার করে লেখা হয়, “মোদী সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মঞ্চে ভারতকে বিশ্বব্যাপী হাসির পাত্র করে তুলেছে। চীনা রোবটগুলিকে আমাদের নিজস্ব রোবট হিসেবে দেখানো হচ্ছে। চীনা মিডিয়া আমাদের উপহাস করেছে। এটি ভারতের জন্য সত্যিই লজ্জাজনক।… মোদী সরকার দেশের ভাবমূর্তির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একটি রসিকতায় পরিণত করেছে। অথচ এটা এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আমাদের ডেটা ক্ষমতা দিয়ে আমরা বিশ্বনেতা হতে পারি।“
সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধীও। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে কংগ্রেসের ওই পোস্ট শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘’এই এআই সম্মেলনটা আসলে জনসংযোগ প্রদর্শনের ব্যর্থ চেষ্টা। ভারতের প্রতিভা ও তথ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার বদলে এই সম্মেলনে ভারতের তথ্য বিক্রি হচ্ছে। আর চিনা পণ্যকে ভারতের বলে দাবি করা হচ্ছে।”
আজ এই সম্মেলনে বক্তৃতা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি এই ভুল-বিতর্ক এবং তা নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ প্রসঙ্গে কিছু বলেন কি না সেইদিকেই তাকিয়ে সকলে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন