

রাজ্যে দু’দিনেই ১৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে বেকার ভাতার আবেদনকারীর সংখ্যা। এই পরিসংখ্যানই রাজ্যের কর্মসংস্থানের হতাশাগ্রস্ত চেহারাকে বেআব্রু করে দিল। ইতিমধ্যেই যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার প্রচুর কর্মসংস্থানের দাবি করা হলেও বাস্তব অবস্থা ঠিক কী তা গত দুদিনেই স্পষ্ট হয়ে গেছে বলে মত নেটিজেনদের।
বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীদের মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রবিবার থেকে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন নেওয়া শুরু করেছে সরকার। প্রতিটা বিধানসভায় শিবির করে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। সোমবার রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে আবেদনকারীর সংখ্যা ১৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।
প্রথম দিনে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষাধিক। সোমবার তা ৮ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এছাড়া রবিবার রাত থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। সেই সংখ্যা ধরলে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ১৬ লক্ষ ছাড়িয়েছে।
রাজ্যওয়াড়ি তথ্যের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত শীর্ষে আছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে দু’দিনে দেড় লক্ষ ছাপিয়ে গেছে আবেদনকারীর সংখ্যা। এরপরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এই জেলায় সোমবার পর্যন্ত ১ লক্ষ ১৮ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তারপর আছে যথাক্রমে পুরুলিয়া (১ লক্ষ), বাঁকুড়া (৯২ হাজার) এবং উত্তর ২৪ পরগনা (৯০ হাজার)।
পশ্চিম মেদিনীপুরে ৬৫ হাজার, পূর্ব মেদিনীপুরে ৬২ হাজার এবং হাওড়ায় ৬৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। সব থেকে কম আবেদন পড়েছে কালিম্পংয়ে, মাত্র ৩ হাজার। ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করবে সরকার। অর্থাৎ আবেদনকারীর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আবেদনকারীর তালিকায় উচ্চ মাধ্যমিক পাশ থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর পাশ অসংখ্য যুবক রয়েছে। পিএইচডি করা গবেষকও রয়েছেন। ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে শিবিরগুলিতে। অনেকেই সংবাদমাধ্যমের সামনে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।
তবে এই বিপুল ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত শাসক শিবির। বিধানসভা নির্বাচনে এই ভিড়ের ভাল প্রভাব বলে আশাবাদী তাঁরা।