

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে সংখ্যালঘুদের দিকে বিশেষ নজর দেবার পক্ষে সওয়াল করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এর আগে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রায় উল্টো কথা বলেছিলেন। শনিবার বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের কাছে পৌঁছতে হবে।’
শুভেন্দু অধিকারী এর আগে প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, এই রাজ্যে সংখ্যালঘুদের ভোট বিজেপি পায়না। সেই প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার যুক্তি ছিল, সংগঠন থেকে সংখ্যালঘু মোর্চাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হোক। যদিও তাঁর এই বক্তব্যে যথেষ্ট জলঘোলা হয়। বিতর্কের মুখে সেই বিষয়ে আর কিছু বলেননি শুভেন্দু অধিকারী। যদিও গতকাল শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের পর সেই বিতর্ক আবার বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ কার্যত বিরোধী দলনেতার সম্পূর্ণ উল্টো সুরে কথা বলেছে দলের রাজ্য সভাপতি।
শনিবার দলের সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, নীতিগতভাবে বিজেপি কোনও বিভাজন মানে না। তাদের কাছে সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরু সবাই সমান। কিন্তু কিছু মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। সেই বিভ্রান্তি দূর করতে, সংখ্যালঘুদের কাছে পৌঁছতে হবে। তাদের হাত থেকে তরোয়াল কেড়ে নিয়ে সেখানে কলম ধরিয়ে দিতে হবে। বোমার পরিবর্তে হাতে বই তুলে দিতে হবে।
গতকাল শমীক ভট্টাচার্য বলেন, যারা আজ বিভ্রান্তি তৈরি করছেন যে বিজেপি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, সংখ্যালঘু নিধনই বিজেপির একমাত্র রাজনৈতিক এজেন্ডা, তাদের একবার গিয়ে জিজ্ঞেস করুন গুজরাটে কত মুসলমান ভাই রুজির জন্য আছেন। তাদের কেউ কোনও অসুবিধে করেছে কিনা… আমাদের সংখ্যালঘু বস্তিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে ১৫ বছর আগে আপনারা কোথায় ছিলেন? আর আজকে আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কী পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের চেহারা কী পশ্চিমবঙ্গে? একটার পর একটা খারিজি মাদ্রাসা বাড়ছে। যেখানে বিজ্ঞান শিক্ষা নেই, অঙ্ক নেই, ইংরেজি নেই। আপনারা কী করে জাতীয় জীবনের প্রতিযোগিতায় যেতে পারবেন? মুসলমানের ঘরের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখবে না?
অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিক বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রকাশ্যে এসেছে। যা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। রাজ্য বিধানসভা ভোটের আগে দলীয় সভাপতির এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন