

‘রাজ্যে বামপন্থীদের শেষ করার জন্য আরএসএস মাওবাদীদের ব্যবহার করেছিল তৃণমূল। কিন্তু লাল ঝান্ডাকে শেষ করা যায়নি। কিষেনজি এবং শুভেন্দু মিলে একসাথে আমাদের কমরেডদের খুন করেছে। আর এখন বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে সে বলছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।’ মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামের লালগড়ে এক জনসভায় একথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
এদিন লালগড়ের সজীব সংঘ ময়দানের সমাবেশে শহিদ শালকু সোরেনকে স্মরণ করে মহম্মদ সেলিম বলেন, শালকু সোরেনের মা মঞ্চে আছেন। শহিদের মা, আমাদের সকলের মা। যারা মনে করেছিল শালকু সোরেনকে খুন করে লাল ঝান্ডাকে শেষ করবে তারা যেন মনে রাখে – সব ইয়াদ রাখা জায়েগা। আমাদের আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রমাণ দিতে হবে শহিদের রক্ত ব্যর্থ হয় না। সেই সময় এই কাজের যে হোতা ছিল, সে এখন বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে বলছে আমি তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
তিনি আরও বলেন, গোটা পশ্চিমবঙ্গে পিসি ভাইপোর মুখ কেউ দেখতে চায় না। লুটের রাজত্ব হয়েছে। আমাদের কৃষি, আমাদের কল কারখানা, আমাদের বন জঙ্গল, গাছ পালা, নদী নালা সব লুট হচ্ছে। এই লুটের বিরুদ্ধে লড়তে পারে লালঝান্ডা। তাই লালঝান্ডার বিরুদ্ধে সবাই এককাট্টা হয়েছিল। তখন সব শেয়ালের এক রা হয়েছিল। সবাই বলেছিল লাল হটাও, দেশ বাঁচাও। লাল হটেছে, দেশ বাঁচেনি। তাই দেশকে যদি বাঁচাতে হয় লালঝান্ডাকে মজবুত করতে হবে।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, এই সরকারের আমলে আবাস যোজনার টাকা লুঠ হয়েছে, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে, স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একশো দিনের কাজ চৌপট। তাহলে শালকু সোরেনরা খুন হবার পর কাদের লাভ হয়েছিল? মানুষের কি কোনও লাভ হল? এই মাটিতে যারা অপরাধ করেছে তাঁদের এই মাটিতেই বিচার হবে।
মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘মমতা বলেছিল পাহাড় জঙ্গলমহল হাসছে। কিন্তু পাহাড়ে যখন বন্যা হলো মমতা তখন কলকাতায় নাচছিল। জঙ্গলমহলের মানুষ ভালো নেই। মানুষের হাতে কাজ নেই। মমতা এখন কোন কথা বলছে না।’
এদিনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শহিদ শালকু সোরেনের মা ছিতামনি সোরেন। মঞ্চে মাইক হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘সবাইকে লাল সেলাম’।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে প্রাক পরিবর্তনের সময়ে এই লালগড়, জঙ্গলমহল অঞ্চলে শালকু সোরেন সহ ২৬৭ জন সিপিআইএম নেতা কর্মী ও নিরীহ মানুষ খুন হন। যার বিচার এখনও হয়নি। সিপিআইএম নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০০৮-০৯ সালে জঙ্গলমহল এলাকায় প্রতিদিন তৃণমূল এবং মাওবাদীদের হাতে শহীদ হতে হয়েছিল দলীয় কর্মীদের।
এদিনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) নেতা পুলিন বিহারী বাস্কে, বিজয় পাল। সভা শুরুর আগে এক বিশাল মিছিল এলাকা পরিক্রমা করে। এদিনের সভায় শালকু সরেন সহ ২৬৭ জন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এবং নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। শালকু সরেনের মা ছিতামণি সোরেনের হাতে ফুল তুলে দেন মহম্মদ সেলিম।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন