

● বাজেট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিহার তো এর আগে বাজেট থেকে পেয়েছিল, বাংলা বঞ্চিত হল।
● মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী থাকার সময় ডানকুনি পণ্য করিডরের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
● কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য - “এই বাজেট হচ্ছে গারবেজ অফ লাই (মিথ্যার জঞ্জাল)।
গত দুবছর কেন্দ্রীয় বাজেটে ভোটমুখী বিহারের জন্য বিপুল বরাদ্দ ছিল। যা দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা হয়েছিল এবছর পশ্চিমবঙ্গের জন্যও ‘কল্পতরু’ হবে কেন্দ্র সরকার, কারণ চলতি বছরই বিধানসভা নির্বাচন বাংলায়। কিন্তু পশ্চিমবাংলার জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নে মাত্র তিনটি প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে এবছরের বাজেটে, যা বিহারের অর্ধেকেরও কম। এই বাজেটকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ বলে কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের জন্য মাত্র তিনটি প্রস্তাব রয়েছে - শিলিগুড়ি-বারাণসী দ্রুত গতির রেল চলাচলের করিডর, ডানকুনি-সুরত ফ্রেট করিডর এবং দুর্গাপুরে শিল্প করিডর গড়ে তোলা। সবগুলিই পরিকাঠামোগত, দীর্ঘমেয়াদি।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালে তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফেরার পর জুন মাসের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে বিহারের জন্য মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। এর পরের বছরও ঢালাও ঘোষণা ছিল বিহারের জন্য। ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফুড টেকনোলজি’ গড়ে তোলা, মাখনা চাষিদের উন্নয়নের জন্য বিশেষ বোর্ড গড়া, পটনা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ, চারটি নতুন গ্রিনফিল্ড এবং একটি ব্রাউনফিল্ড বিমানবন্দর নির্মাণ, পাটনা আইআইটি-র উন্নয়ন ইত্যাদি একাধিক ঘোষণা। ২০২৫ সালে বিহারে বিপুল ভোটে জিতেছে এনডিএ।
রবিবারের বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এই বাজেট হচ্ছে গারবেজ অফ লাই (মিথ্যার জঞ্জাল)। শুধু আওয়াজ আছে কিন্তু দিশাহীন বাজেট। ভিশন, মিশন কিছুই নেই এই বাজেটে। মহিলা-কৃষক-গরীব মানুষদের কথা বলাই হয়নি এই বাজেটে। যুবকদের জন্যও কিছু নেই। শিক্ষা ও সুরক্ষা খাতে টাকা কমানো হয়েছেন।‘’
তিনি আরও বলেন, “বিহার তো এর আগে বাজেট থেকে পেয়েছিল, বাংলা বঞ্চিত হল। ওরা বাংলায় হারবে। রাজনৈতিক ভাবে কিছু করতে পারবে না। ভোট পাবে না বলেই পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী থাকার সময় ডানকুনি পণ্য করিডরের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তারপর ওই কাজ থমকে যায়। অন্যদিকে, গত রাজ্য বাজেটে ছ’টি পণ্য করিডর তৈরির কথা জানিয়েছিল সরকার - ডানকুনি-রঘুনাথপুর, রঘুনাথপুর-তাজপুর, ডানকুনি-ঝাড়গ্রাম, ডানকুনি-কোচবিহার এবং পুরুলিয়ার গুরুডি থেকে জোকা এবং খড়্গপুর-মোরগ্রাম। সেকথাও এদিন স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর কটাক্ষ, “পুরোটাই মিথ্যে কথার ফুলঝুরি। হাম্পটি ডাম্পটি বাজেট। বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।”
এই বাজেটকে ‘দিশাহীন, ভিত্তিহীন এবং লক্ষ্যহীন’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিও। তিনি বলেন, “৮৫ মিনিটের বাজেট ভাষণে বাংলার জন্য কিছু ঘোষণা করা হয়নি।”
তবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘কর্মসংস্থান এবং শিল্প ছাড়া এই রাজ্যের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। গত ১৫ বছরে তোলাবাজির জন্য কয়েক হাজার শিল্পসংস্থা রাজ্য ছেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ঘোষণাগুলি তাৎপর্যপূর্ণ।’’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন