

আমরা শুধু বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছি না। আমরা ফ্যাসিবাদী শক্তি, দক্ষিণপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করছি। বামপন্থা মানে রুটি রুজির দাবী, খাদ্য বস্ত্র ও বাসস্থানের মাটির লড়াই। কিন্তু ওরা সেটা চায় না। কারণ ওরা জানে বামপন্থীদের দমানো না গেলে দক্ষিণপন্থার উত্থান সম্ভব নয়। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা এবং দাসপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় কর্মীদের কর্মীদের সভায় একথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
মহম্মদ সেলিম বলেন, সিপিআই(এম) ও বামশক্তিকে মজবুত করতে না পারলে শ্রেণী আন্দোলন ও শ্রেণী সংগ্রাম বিকশিত হবেনা। শুধু বামফ্রন্ট নয়, বামফ্রন্টের বাইরেও যে বাম শক্তি আছে, ব্যক্তি, গোষ্ঠী, দল আছে, তাদেরও সঙ্গে নিতে হবে। আমরা লড়াইয়ের বৃত্ত বড়ো করে বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তোলবার চেষ্টা চালাচ্ছি।
গতকাল মহম্মদ সেলিম বলেন, ব্রিটিশের বিভাজনের রাজনীতি, ধর্মীয় মেরুকরণের মৌলবাদী জিগির আমদানি করছে ওরা। দাঙ্গা হাঙ্গামার রাজনীতিতে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে চলছে লুঠের রাজনীতি। আমরা এর বিরুদ্ধে হাজির করেছি বিকল্প।
রাজ্যের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, যিনি ফাইল ছিনতাই করলেন, যার বান্ধবীর ঘাটের তলা থেকে চাকরি বিক্রির টাকা উদ্ধার হলো, কয়লা, বালি, সোনা পাচার, কাকুর গলার স্বরে মিল খুঁজে পাওয়া গেল, তাদের বিচার না করে ছেড়ে দিয়ে এখন ভোটারকে বিচারাধীন করে দিয়ে গণতন্ত্রকে সংকুচিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চোর চোরকে ধরছে না। বিজেপি তৃণমূল কেউ কাউকে জব্দ করেনি। জব্দ হয়েছে বাংলার মানুষ। আবার নতুন করে ৬০ লক্ষ ভোটারকে বিবেচনাধীন তালিকায় রেখে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র। আরএসএস'র এজেন্ডা কার্যকর করছে নির্যাতন এজেন্সি। তৃণমূল ও বিজেপি কার্যকলাপই প্রমাণ করে দিচ্ছে সেটিং এর রাজনীতি। তাই আমাদের এখন একটাই দাবী, আগে ভোটার তারপর ভোট। তালিকা দিতে না পারলে ঠিকমতো ভোটও নিতে পারবে না। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি আমরা মানছি না।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, রাজ্যে পরিবর্তনের পর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ব্যবসা, বাণিজ্য, পরিবেশ সবকিছু ধ্বংস হয়েছে। দেশী বিদেশী অর্থ দিয়ে আরএসএস মমতাকে দুর্গা বানিয়ে মাওবাদী ভাড়া করে বামপন্থাকে খতম করার মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে। তৃণমূলের শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলো জঙ্গলমহলে লাল ঝান্ডার ধরার লোক দূরের কথা, লাল কাপড়ের টুকরোও পাওয়া যাবে না। আর এখন তৃণমূলী শুভেন্দু তৃণমূলের পতাকা ন্যাকড়া করে বিজেপিতে চলে গেছে দূর্নীতি ও জেলের ভয়ে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন